1. jitsolution24@gmail.com : admin :
  2. support@wordpress.org : Support :
শুক্রবার, ০৭ অক্টোবর ২০২২, ০২:২৭ পূর্বাহ্ন

নারীবান্ধব শিক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে

বিশেষ প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : রবিবার, ৯ মে, ২০২১
  • ২৩৯ Time View

আমাদের সমাজে নারীর কাজের যথাযথ মূল্যায়ন নেই। রাষ্ট্রীয় পর্যায়েও নারীদের সব কাজের স্বীকৃতিও নেই। নারীর অমূল্যায়িত কাজের মূল্যায়নের জন্য নৈতিক ও আইনি স্বীকৃতি নিশ্চিত করতে হবে। লিঙ্গ বৈষম্য নিরসনের জন্য নারীবান্ধব শিক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি আর্থিকভাবে স্বাবলম্বি করার জন্য জাতীয় বাজেটে নারী উন্নয়নে বিশেষ বরাদ্দ রাখা জরুরী। করোনাকালীন পরিস্থিতিতে বরাদ্দ বাড়ানো এবং এই বরাদ্দ সুষ্টু বন্টনে নজরদারী জোরদার করা অত্যাবশ্যক। ‘কোভিড পরিস্থিতিতে জেন্ডারবান্ধব বাজেট: নারীর অমূল্যায়িত কাজের মূল্যায়ন’ শীর্ষক ওয়েবিনারে এ সব বিষয় উঠে এসেছে। রোববার (৯ মে)  কালের কণ্ঠ ও মানুষের জন্য জন্য ফাউন্ডেশন এই আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

স্বাগত বক্তব্যে কালের কণ্ঠ সম্পাদক ও ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্র“পের পরিচালক ইমদাদুল হক মিলন বলেন, এই দেশে নারীকে সঠিকভাবে মূল্যায়ণ করা হয়না। তবে ধীরে ধীরে নারীকে মূল্যায়ণ করা হচ্ছে। বিয়ের পর পুরুষরা ভাবে নারীরা সংসারের কাজ করবে আর বাচ্চা লালন পালন করবে। কিন্তু নারীর স্বাস্থ্য স¤পর্কে তাঁরা (পুরুষ) অনেক সময় খেয়াল রাখেন না। গার্মেন্টস শিল্পে নারীদের অবদান রয়েছে। তবুও গার্মেন্টসে নারীরা এখনো ন্যায্য মূল্য পাননা। নারীরা বিভিন্ন জায়গায় পুরুষের সঙ্গে কাজ করেও কম পারিশ্রমিক পেয়ে থাকেন। তাই এই সমস্যা তৃণমূল থেকেই ঠিক করা প্রয়োজন।

সভাপতির বক্তব্যে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহিন আনাম বলেন, করোনার মধ্যে নারীদের ওপর সহিংসতা ও বাল্যবিবাহ বেড়েছে। নারীরা বিভিন্ন জায়গায় চাকরীর মাধ্যমে নিজেদের স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু সেই সময় কভিড এসে অর্থনৈতিক অবস্থা পুরোপুরি ধ্বংস করে দেয়। এতে নারীরা ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।

বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও গণনীতি বিশ্লেষক ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, নারীর অমূল্যায়িত শ্রমের স্বীকৃতি দিতে হলে নারী অধিকারের আইনি ভিত্তিকে শক্তিশালী করতে হবে। আইনি স্বীকৃতির মধ্যে নিয়ে আসতে হবে। অর্থাৎ নারী ও পুরুষকে আইনের সমান দৃষ্টিতে দেখতে হবে। তাকে সম্পত্তির অধিকারের মধ্যে রাখতে হবে, শিশুর উপর কর্তৃকের অধিকার, বিবাহ বিচ্ছেদের অধিকার থাকতে হবে। নারীর নির্বচনী অধিকার, পরিবার থেকে সবাইকে নৈতিক শিক্ষা ও নারীর অধিকারকে আইনি স্বীকৃতির মধ্যে নিয়ে আসতে হবে। ধর্মীয় অনুষ্ঠানে নারী বিদ্বেষী বক্তব্য বন্ধ করতে হবে।

জাতীয় সংসদ সদস্য সৈয়দা রুবিনা আক্তার বলেন, সবার আগে আমাদের জানতে হবে নারীর অমূল্যায়িত কাজ কী। নারীর অমূল্যায়িত কাজের মূল্যায়ন করতে হলে তাত্ত্বিক কথাবার্তা না বলে বরং যারা তাদের বাস্তব জীবনে এসব সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন তাদের মুখ থেকেই এটা জানতে হবে। প্রথাগত ভাবেই এই সমাজটা পুরুষের। কাজ কিন্তু নারীরাই বেশি করছে। বাচ্চা জš§ থেকে শুরু করে, স্বামীর সেবা; সব কাজই একটি নারী করে। কিন্তু সমাজপতিরা বা পুরুষ শ্রেণী কখনোই এটার মূল্যায়ন করেনি।

জাতীয় প্রেসক্লাব ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, জিডিপিতি নারীর অবদান এখন ২০ শতাংশ। অথচ সংসারের ভেতরে বাইরে নারী যে কাজ করে সেগুলোর মূল্যায়ন ধরলে কিন্তু এই অবদানের পরিমান দাঁড়াবে ৪৮ শতাংশে। অর্থাৎ পুরুষের কাজের প্রায় সমান নারীর অবদান। কিন্তু নারীরা যখন ঘরের কাজ করেন তখন সেই হিসাবের সঙ্গে এই অবদানটার পরিমান যোগ হচ্ছে না।

মূল প্রবন্ধে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের জেন্ডার অ্যাডভাইজর বনশ্রী মিত্র নিয়োগী বলেন, গত বছরের জেন্ডার বাজেট দেখে আমরা তুলনামূলকভাবে হতাশ হয়েছি। কারণ কাক্সিক্ষত কোন ফলাফলই সেখানে প্রতিফলিত হয়নি। নতুন বাজেটের কার্যক্রম হয়তো হয়ে গেছে, কিন্তু নারীর ক্ষতি পুষিয়ে ওঠার মতো বাজেট তৈরি হচ্ছে কিনা সেই বিষয় খেয়াল রাখতে হবে। নারীর বিভিন্ন ধরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করার জন্য নতুন কী ধরণের সুযোগ  তৈরি করা হয়েছে সেটি বাজেটে উঠে আসা দরকার।

এ ছাড়াও আলোচনা করেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্টের সিনিয়র রিসার্স ফেলো ড. নাজনীন আহমেদ, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. ইসমত আরা বেগম, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. লায়লা আশরাফুন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক তানিয়া হক, সমাজসেবা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ কামরুজ্জামান, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের অতিরিক্তি পরিচালক ড. শেখ মুসলিম মুন ও আইএলও’র জেন্ডার বিশেষজ্ঞ শাম্মিন সুলতানা। সঞ্চালনা করেন কালের কণ্ঠের বিশেষ প্রতিনিধি আজিজুল পারভেজ।

আলোচকরা বলেন, গ্রামাঞ্চলে ৪৫ শতাংশ নারীরা কৃষিকাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত। কিন্তু তারা পরিবার থেকে এই কাজের বিনিময়ে কোনো অর্থনৈতিক সুবিধা বা মূল্যায়র পায় না। এটার সুফল ভোগ করে পরিবারের পুরুষেরা। সামগ্রিকভাবে করোনা পরিস্থিতি নারীকে আরো একধাপ দারিদ্রতার দিকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2022