1. jitsolution24@gmail.com : admin :
  2. support@wordpress.org : Support :
শুক্রবার, ০৭ অক্টোবর ২০২২, ০২:৩৬ পূর্বাহ্ন

বড় প্রকল্পের টাকা খরচ হয়না আর মানুষ অল্প টাকার বাধ পায়না

বিশেষ প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : শুক্রবার, ৪ জুন, ২০২১
  • ২৬৮ Time View

দেশের অনেক বড় বড় প্রকল্পের টাকা বছর শেষে খরচ হয় না। আর অল্প কিছু টাকার বাধের অভাবে বছরের পর বছর ভুগতে হচ্ছে কয়রার মানুষকে। কারণ কয়রাবাসীর রাজনৈতিক ভয়েস নেই অথবা সংসদে শক্তিশালী প্রতিনিধি নেই।

শুক্রবার (৪ জুন) রাজধানীর একটি হোটেলে ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেট পর্যালোচনায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম।

ছোট ছোট প্রকল্পের বরাদ্দ কমানো এবং বড় বড় (মেগা) প্রকল্পের বরাদ্দ বাড়ানোর বিষয়ে তিনি বলেন, ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কিছু জায়গায় আসলেই সাধারণ মানুষের জন্য টাকা দরকার ছিল। কিন্তু সেখান থেকে টাকা কেটে ফেলা হয়েছে। লাইভলিহুড এমপ্লয়মেন্টের যে প্রোগ্রামগুলো রয়েছে সেগুলোতে বরাদ্দ আগের চেয়ে কমানো হয়েছে। একই ভাবে তৃণমুলের জীবিকা নির্বাহের জন্য যে বরাদ্দ ছিল তা কমানো হয়েছে। এই বরাদ্দের পরিমান বেশি না। অল্প টাকা দিলেই অনেক কাজ হয়।

গোলাম মোয়াজ্জেম আরও বলেন, আমার চোখে লাগবে বেশি তখনই যখন আমি দেখবো কয়রা মত এলাকায় সাধারণ মানুষ ছোট একটা বাধের জন্য আন্দোলন করে। কিন্তু অন্য ক্ষেত্রে বড় প্রকল্পের জন্য টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও তারা সেটি খরচ করতে পারে না। অথচ কয়রার মানুষ বাধটি পাচ্ছে না। অর্থ ব্যবহারের ক্ষেত্রে যে বৈষম্যর ফলে সাধারণ মানুষের ভুগতে হচ্ছে। শুধুমাত্র তার রাজনৈতিক ভয়েস নেই বা সংসদে তার শক্তিশালী প্রতিনিধি নেই। এর জন্য যে ভুগতে হচ্ছে এই জায়গা থেকে বেরিয়ে আসা দরকার।

তিনি বলেন, প্রাধিকার মেগা প্রকল্পের ক্ষেত্রে যে বাড়তি বরাদ্দ কিন্তু সরকারকে অন্যখাতের অর্থ কাটছাট করতে বাধ্য করেছে। ঠিক একই ভাবে পদ্মা সেতুর উপর দিয়ে এখনই রেলসেতু করার তাড়াহুড়ার দরকার ছিল কি-না সেটিও আমাদের কাছে প্রশ্ন। তবে মেগা প্রকল্পের মাধ্যমে সরকার কর্মসংস্থানের চেষ্টা করেছেন এবারের বাজেটে। সেখানেও আমাদের কিছু প্রশ্ন রয়েছে। এমন কিছু মেগা প্রকল্পে বরাদ্দ রাখা হয়েছে। সেখানে  আসলে এবছর এতটা বরাদ্দ না রাখলেও হতো। যেমন বিদ্যুৎখাত। বলা হচ্ছে বাড়তি বিদ্যুৎ রয়েছে। কিন্তু মেগা প্রকল্পে আমরা দেখতে পাচ্ছি রূপপুর পারমানবিক প্রকল্পে সর্বোচ্চ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এই প্রকল্প শেষ হবে ২০২৫ সালে। সরকারের একটি রাজনৈতিক লক্ষ্য আছে নির্বাচনের আগে মেগা প্রকল্পগুলো সম্পন্ন করা। সেটি করার জন্য আসলে এটি ম্যাচ করে না। আবার পারমানবিক বিদ্যুৎ দিয়ে যে এত পরিমান বাড়তি বিদ্যুৎ হবে সেটা কোথায় ব্যবহার হবে। কারণ আমরা পায়রার বাড়িতে বিদ্যুৎ এখন ব্যবহার করতে পারছি না।

ব্যবসার এরকম অনিশ্চিত পরিবেশের মধ্যে আমাদের প্রত্যাশা ছিল সরকারিখাতের বিনিয়োগের মাধ্যমেই সরকার কর্মসংস্থান বা কর্মসৃজনের চেষ্টা করবেন। সেই লক্ষ্যে সরকারের কর্মসৃজন প্রকল্পগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা যায় অনেকগুলো প্রাধিকার প্রকল্প আরও বরাদ্দ থাকার দরকার। বিভিন্ন অঞ্চলে বিসিক শিল্পনগরী স্থাপনের প্রকল্প রয়েছে। সেগুলো শেষ করার লক্ষ্যে বরাদ্দ দিলে এবছরই শেষ হতো। ফলে সেখানে শিল্প কারখানা হতো বিনিয়োগ হতো, কর্মসংস্থান হতো। এধরণের অনেক প্রকল্প আমরা পড়ে থাকতে দেখেছি। যথেষ্ট পরিমানে বরাদ্দ সেখানে যায়নি। সরকার বাজেট বক্তৃতায় চারটি বিষয়কে কৌশলগত ভাবে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেছেন। আমরা কিন্তু সেই ভাবে খাত ভিত্তিক বরাদ্দ যথেষ্ট ছিল না। কর্মসংস্থানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চারটি খাতের মধ্যে শুধুমাত্র শ্রমমন্ত্রণালয় যথেষ্ট বরাদ্দ পেয়েছে। সুতরাং আমরা বুঝতে পারছি সরকারি ব্যয়ের মাধ্যমে সরকার কর্মসংস্থানে খুব বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে না।

অনুষ্ঠানে মুল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন।

আরও উপস্থিত ছিলেন সম্মানীয় ফেলো প্রফেসর ড. মোস্তাফিজুর রহমান, সিনিয়র রিসার্চ ফেলো তৌফিকুল ইসলাম খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2022