এক সময় দেশের ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা, লাভজনকতা ও আস্থার প্রতীক ছিল ইসলামী ব্যাংক। গত কয়েক বছরে নানা সংকট, বিপুল খেলাপি ঋণ এবং মূলধন ঘাটতির চাপে ব্যাংকটি কঠিন সময় পার করলেও একটি বিষয় এখনও অটুট রয়েছে—সেটি হলো লাখো আমানতকারীর আস্থা।
ব্যাংকিং খাতের বিশ্লেষকদের মতে, ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় ইতিবাচক দিক হচ্ছে এর শক্তিশালী আমানতভিত্তি। নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যেও গ্রাহকরা ব্যাংকটির প্রতি আস্থা হারাননি। বরং সাম্প্রতিক সময়েও আমানতের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ব্যাংকটির প্রতি গ্রাহকদের বিশ্বাসেরই প্রতিফলন।
সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসে ইসলামী ব্যাংকের আমানত বেড়েছে ৪ হাজার ৫৭ কোটি টাকা। এমন এক সময়ে এই প্রবৃদ্ধি এসেছে, যখন ব্যাংকটি খেলাপি ঋণ ও আর্থিক পুনর্গঠনের মতো বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে।
ব্যাংকিং খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, কোনো ব্যাংকের জন্য আমানতই হলো প্রাণশক্তি। আমানতকারীরা যদি আস্থা হারিয়ে অর্থ তুলে নিতে শুরু করেন, তাহলে সবচেয়ে শক্তিশালী ব্যাংকও সংকটে পড়তে পারে। সেই বিবেচনায় ইসলামী ব্যাংকের আমানত ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়া ব্যাংকটির জন্য বড় স্বস্তির খবর।
ইসলামী ব্যাংকের দীর্ঘদিনের গ্রাহকভিত্তি, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিস্তৃত শাখা নেটওয়ার্ক এবং শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা এখনও ব্যাংকটির অন্যতম বড় সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ব্যাংকিং বিশেষজ্ঞদের মতে, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের অর্থনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। দেশের রেমিট্যান্স আহরণ, গ্রামীণ অর্থনীতিতে অর্থায়ন এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের সহায়তায় ব্যাংকটির অবদান দীর্ঘদিনের। ফলে সাধারণ গ্রাহকদের একটি বড় অংশ এখনও ব্যাংকটির সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখেছেন।
বর্তমানে ব্যাংকটি আর্থিক পুনরুদ্ধারের পথে রয়েছে। খেলাপি ঋণ আদায়, মূলধন শক্তিশালীকরণ এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার মতো বিষয়গুলোতে অগ্রগতি অর্জন করতে পারলে ব্যাংকটির ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তাদের মতে, ইসলামী ব্যাংকের সবচেয়ে বড় শক্তি এখন কোনো ভবন, সম্পদ বা বিনিয়োগ নয়; বরং লাখো আমানতকারীর অবিচল আস্থা। এই আস্থাই ব্যাংকটিকে সংকটের মধ্যেও সচল রেখেছে এবং ভবিষ্যতে পুনরায় শক্ত অবস্থানে ফিরে যাওয়ার ভিত্তি তৈরি করছে।
ব্যাংকিং খাতের পর্যবেক্ষকদের ভাষায়, “অর্থনৈতিক সূচক গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু একটি ব্যাংকের প্রকৃত শক্তি হলো তার গ্রাহকদের বিশ্বাস। ইসলামী ব্যাংকের ক্ষেত্রে সেই বিশ্বাস এখনও অটুট রয়েছে। আর এই আস্থাই ব্যাংকটির পুনরুত্থানের সবচেয়ে বড় আশার জায়গা।”
সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, প্রয়োজনীয় সংস্কার, কার্যকর ঋণ পুনরুদ্ধার এবং সুশাসন নিশ্চিত করা গেলে আমানতকারীদের এই আস্থা ইসলামী ব্যাংককে আবারও দেশের অন্যতম শক্তিশালী ব্যাংক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বর্তমানে ব্যাংকটির জন্য সবচেয়ে বড় ভরসা এবং সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হয়ে উঠেছেন এর আমানতকারীরাই।











