মো. রাফাত উল্লাহ খান
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ঋণ জালিয়াতি ও বিভিন্ন ধরনের দুর্নীতির অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু করেছে। অভিযোগের বিষয়ে তথ্য ও নথিপত্র সরবরাহ করতে ব্যাংকটির কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছে সংস্থাটি।
দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ঢাকা-২ থেকে পাঠানো এক চিঠিতে বলা হয়েছে, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ, সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরমান আর চৌধুরী এবং বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রাফাত উল্লাহ খানের বিরুদ্ধে ঋণ জালিয়াতি, বিভিন্ন ধরনের দুর্নীতি, কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগে অনিয়ম, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সুদ মওকুফ এবং ভুয়া প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণ বিতরণের অভিযোগ উঠেছে।
দুদক জানায়, এসব অভিযোগের সুষ্ঠু অনুসন্ধানের জন্য একজন উপপরিচালককে অনুসন্ধান কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। অনুসন্ধানের স্বার্থে ব্যাংকটির কাছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নথি ও তথ্য চাওয়া হয়েছে।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ব্যাংকটিতে বিভিন্ন পদে নিয়োগের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দিতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে—অ্যাডিশনাল এমডি, তিনজন এসইভিপি, পাঁচজন ইভিপি, নয়জন এসভিপি, ১১ জন ভিপি, নয়জন এসএভিপি, ১২ জন এভিপি, নয়জন এফএভিপি, চারজন সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার, ১১ জন প্রিন্সিপাল অফিসার, দুইজন সিনিয়র এক্সিকিউটিভ অফিসার, দুইজন এক্সিকিউটিভ অফিসার এবং ১৮ জন ম্যানেজমেন্ট ট্রেইনি অফিসার নিয়োগ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি, আবেদনপত্র, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার খাতা, নম্বরশিট এবং ফলাফলের ট্যাবুলেশন শিট। পাশাপাশি এসব নিয়োগের ক্ষেত্রে পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্তের কপিও দিতে বলা হয়েছে।
এছাড়া ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত যেসব ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠানের সুদ মওকুফ করা হয়েছে, তাদের তালিকা এবং সংশ্লিষ্ট সব নথি, ঋণ প্রদান, আদায় ও সুদ মওকুফ সংক্রান্ত কাগজপত্র এবং বোর্ড রেজুলেশনের কপি চাওয়া হয়েছে।
দুদক আরও জানতে চেয়েছে, একটি টি-২০ ক্রিকেট লিগে স্পন্সরশিপ গ্রহণ সংক্রান্ত সব নথিপত্র এবং ব্যাংকের ডিএমডি মোহাম্মদ হোসেনের ব্যক্তিগত নথিও।
বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রাফাত উল্লাহ খানের নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে এমডি নিয়োগের নীতিমালা, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, বোর্ড রেজুলেশন, যাদের নাম বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠানো হয়েছিল তাদের তালিকা, বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠানো আবেদনপত্রের কপি, নিয়োগপত্র, যোগদানপত্র, শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ, অভিজ্ঞতার সনদ, জীবনবৃত্তান্তসহ ব্যক্তিগত নথি।
এছাড়া ২০২৫ সালে অডিট ফার্ম নিয়োগ সংক্রান্ত কাগজপত্রও তলব করা হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, এমডি রাফাত উল্লাহ খানের দায়িত্বকালীন সময়ে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের কর বাবদ যে ৬৮ কোটি টাকা জমা দেওয়া হয়েছে, তা কোন খাত থেকে পরিশোধ করা হয়েছে—সে সম্পর্কিত নথিও জমা দিতে হবে।
এর পাশাপাশি কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে দেওয়া ঋণের বিস্তারিত তথ্যও চেয়েছে দুদক। এসব ঋণের ক্ষেত্রে ঋণের হিসাব নম্বর, আবেদনকারীর নাম ও পদবী, ঋণের পরিমাণ, মঞ্জুরীকৃত ও বিতরণকৃত ঋণের পরিমাণ ও তারিখ, মোট পরিশোধিত অর্থ, বর্তমান দায়, ঋণের মেয়াদ এবং ঋণের বর্তমান অবস্থা (শ্রেণিকৃত বা অশ্রেণিকৃত) সংক্রান্ত তথ্য সরবরাহ করতে বলা হয়েছে।
দুদকের চিঠিতে গত ৩ মার্চ তারিখের মধ্যে এসব নথি ও তথ্য অনুসন্ধান কর্মকর্তার কাছে পাঠানোর জন্য ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রাপ্ত নথি পর্যালোচনা শেষে অভিযোগের বিষয়ে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।













