ঢাকা || ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

সঞ্চয়পত্রের বাড়তি উৎসে কর ফেরত পাবেন গ্ৰাহকেরা

সঞ্চয়পত্রের বাড়তি উৎসে কর ফেরত পাবেন গ্ৰাহকেরা

প্রথম আলো

প্রকাশিত: ০৮:৩৫, ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

সঞ্চয়পত্রে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত পুঞ্জীভূত বিনিয়োগের বিপরীতে অর্জিত মুনাফার ওপর গত ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে ৫ শতাংশের বদলে ১০ শতাংশ উৎসে কর কেটে নেওয়া হয়েছে। বাড়তি নেওয়া টাকা ফেরত দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

নিয়ম অনুযায়ী, সঞ্চয়পত্রে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত পুঞ্জীভূত বিনিয়োগের বিপরীতে অর্জিত মুনাফার ওপর উৎসে কর ৫ শতাংশ। পেনশনার সঞ্চয়পত্রে পাঁচ লাখ টাকার নিচের বিনিয়োগের মুনাফার বিপরীতে উৎসে কর নেই। পাঁচ লাখের বেশি বিনিয়োগ হলে সব ক্ষেত্রেই উৎসে কর ১০ শতাংশ। এসব হার নির্ধারণ করে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (আইআরডি) থেকে ২০১৯ সালের ২৮ আগস্ট জারি করা প্রজ্ঞাপন এখনো বহাল আছে। তার পরও কোনো নতুন ঘোষণা ছাড়া গত ডিসেম্বর থেকে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপর ১০ শতাংশ হারে উৎসে কর কাটা হচ্ছিল। পাঁচ লাখ টাকার কম বিনিয়োগকারীরা ব্যাংক থেকে মুনাফা তুলতে গিয়ে বিষয়টি জানতে পারেন। নভেম্বরের তুলনায় ডিসেম্বরে তাঁরা ১০০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত কম মুনাফা পান।

আইআরডি সূত্রে জানা গেছে, পাঁচ লাখ টাকার কম বিনিয়োগ রয়েছে অন্তত ১৪ লাখ ৫০ হাজার মানুষের। পেনশনার সঞ্চয়পত্রের গ্রাহকদের বাদ দিয়ে ১০ লাখ বিনিয়োগকারী ধরলে এবং গড়ে মাসে ১২৫ টাকা করে বাড়তি কর কাটা হিসেবে দুই মাসে প্রায় ২৫ কোটি টাকা বেশি কেটে নেওয়া হয়েছে।

বাড়তি কর কাটার ঘটনায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হলে গত সোমবার এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তিনি প্রথম আলোকে জানান, বিষয়টি সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে এবং পাঁচ লাখ টাকার কম বিনিয়োগকারীদের ক্ষেত্রে উৎসে কর ৫ শতাংশই থাকবে।

এনবিআর গত মঙ্গলবার জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) রওশন আরা বেগমকে চিঠি দেয়। তাতে বলা হয়, আগের মতো পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত পেনশনার সঞ্চয়পত্রে মুনাফার ওপর কোনো উৎসে কর কাটা হবে না। ২০১৯ সালের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগে উৎসে কর ৫ শতাংশই থাকবে। তবে আয়কর আইন ২০২৩-এর ধারা ১০৫ অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তির সব ধরনের সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ পাঁচ লাখ টাকা অতিক্রম করলে মুনাফার ওপর ১০ শতাংশ উৎসে কর প্রযোজ্য হবে।

এই স্পষ্টীকরণ কার্যকর করতে সঞ্চয় অধিদপ্তর একই দিন চিঠি দিয়ে বিষয়টি জানায় অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের আওতায় পরিচালিত স্ট্রেনদেনিং পাবলিক ফাইন্যান্সিয়াল ম্যানেজমেন্ট প্রোগ্রাম টু এনাবল সার্ভিস ডেলিভারির (এসপিএফএমএস) জাতীয় কর্মসূচি পরিচালক জিয়াউল আবেদীনকে।

জটিলতার সূত্রপাত হয় ২০২৫ সালের ১৭ আগস্ট। ওই দিন সঞ্চয় অধিদপ্তরের ডিজি রওশন আরা বেগম এনবিআর চেয়ারম্যানকে চিঠি দিয়ে জানান, ব্যক্তিশ্রেণির বিনিয়োগের বিপরীতে মুনাফা থেকে উৎসে কর কর্তনের বিষয়টি আইনে অস্পষ্ট। তিনি স্পষ্টীকরণ চান। আয়কর আইন ২০২৩-এর ১০৫-এর উপধারা (১)-এ বার্ধক্য, পেনশন, গ্র্যাচুইটি, স্বীকৃত ভবিষ্য তহবিল বা শ্রমিক স্বার্থ অংশগ্রহণ তহবিলের অর্থে কেনা সঞ্চয়পত্রের মুনাফায় ১০ শতাংশ কর কর্তনের কথা বলা আছে। কিন্তু এনবিআর এ বিষয়ে কোনো জবাব দেয়নি।

সোনালী ব্যাংকের ঢাকার রমনা শাখা থেকে ২০২৪ সালের ২৭ মার্চ ৫ লাখ টাকার তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র কেনেন মো. শাহজাহান। এরপর ২০২৫ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি তিনি ১৫ লাখ টাকার পেনশনার সঞ্চয়পত্র কেনেন। তাঁর ছেলে মো. নাজমুল হোসেন ৪ অক্টোবর সঞ্চয় অধিদপ্তরে আবেদন করে জানান, উৎসে কর সঠিকভাবে কাটা হচ্ছে না বা কম কাটা হচ্ছে। এ ঘটনার উল্লেখ করে ২৬ নভেম্বর সঞ্চয় অধিদপ্তর এসপিএফএমএসের কর্মসূচির পরিচালক জিয়াউল আবেদীনকে চিঠি দেয় এবং আয়কর আইন ২০২৩-এর ১০৫ (১) অনুযায়ী ১০ শতাংশ কর কাটার ব্যবস্থা নিতে বলে। এরপর এসপিএফএমএস সফটওয়্যারে ১০ শতাংশ হার যুক্ত করে তা ব্যাংকগুলোকে জানায়।

এ বিষয়ে প্রথম আলোর পক্ষ থেকে রওশন আরা বেগম ও জিয়াউল আবেদীনের বক্তব্য জানতে চাওয়া হলেও তাঁরা সাড়া দেননি।

এনবিআর সূত্র জানায়, ২০১৯ সালের প্রজ্ঞাপন বহাল থাকায় পাঁচ লাখ টাকার কম বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে বাড়তি কাটা কর ফেরত দেওয়া হবে। প্রমাণপত্র সংযুক্ত করে অনলাইনে আবেদন করার ব্যবস্থা রাখা হবে। এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান বলেন, আগের প্রজ্ঞাপন বাতিল না হওয়া পর্যন্ত এ নিয়মই কার্যকর থাকবে। বাড়তি কেটে নেওয়া টাকা গ্রাহকেরা ফেরত পাবেন। তাঁদের টাকা ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

city-bank
city-bank