ভালোবাসার ওপর ভরসা রেখে নেয়া এক অভিনব বীমা—আর তার ফল মিলল প্রায় এক দশক পর। চীনের এক তরুণীর মাত্র ২৮ ডলারের ‘লাভ ইনস্যুরেন্স’ শেষ পর্যন্ত পরিণত হয়েছে ১ হাজার ৪০০ ডলারের প্রাপ্তিতে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া এই গল্প নতুন করে আলোচনায় এনেছে সম্পর্ক, বিশ্বাস আর সময়ের পরীক্ষায় টিকে থাকার বিষয়টি।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি ও সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট–এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনের শানশি প্রদেশের শিয়ান শহরের এক নারী প্রায় এক দশক অপেক্ষার পর এই ‘লাভ ইনস্যুরেন্স’ থেকে ১ হাজার ৪০০ মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ লাখ ৭২ হাজার টাকা) পেয়েছেন।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, ২০১৬ সালে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পড়াকালীন সময়ে প্রেমিকের জন্য উপহার হিসেবে মাত্র ২৮ ডলার (প্রায় ৩ হাজার ৪০০ রুপি) দিয়ে এই বীমা কিনেছিলেন ওই নারী। তাঁর নামের শেষাংশ ‘উ’। তখন তাঁর প্রেমিক ওয়াং বিষয়টি শুনে প্রথমে সন্দিহান হয়ে পড়েন। ওয়াং বলেন, “সে যখন বলল লাভ ইনস্যুরেন্স কিনেছে, আমার প্রথম মনে হয়েছিল সে প্রতারিত হয়েছে।”
চায়না লাইফ প্রপার্টি অ্যান্ড ক্যাজুয়ালটি ইনস্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড এই অভিনব বীমা চালু করেছিল। পলিসির শর্ত অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যুগলটি বিয়ে করলে তারা ১০ হাজার ইউয়ান (প্রায় ১ হাজার ৪০০ মার্কিন ডলার) অথবা ১০ হাজার গোলাপ পাওয়ার সুযোগ পেত।
উ ও ওয়াংয়ের পরিচয় হয়েছিল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পড়ার সময়। দীর্ঘদিনের সম্পর্কের পর অবশেষে ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন এবং সরকারিভাবে বিয়ের নিবন্ধন সম্পন্ন করেন। ফলে বীমার সব শর্ত পূরণ হয়। পরে তারা গোলাপের পরিবর্তে নগদ অর্থ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেন।
উ বলেন, “বিয়ের অনুষ্ঠান তো আগেই শেষ। ১০ হাজার গোলাপ কীভাবে সংরক্ষণ করব, সেটাই বুঝতে পারছি না।”
অন্যদিকে ওয়াং জানান, বীমা কোম্পানির গ্রাহকসেবা বিভাগ তাদের জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার জন্য এক থেকে দুই কর্মদিবসের মধ্যে ই–মেইল পাঠানো হবে। তিনি বলেন, “বিয়ে আর হানিমুন দুটোই শেষ। টাকা হাতে এলে কী করব, তখনই সিদ্ধান্ত নেব।”
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এই ‘লাভ ইনস্যুরেন্স’ পলিসি ২০১৭ সালে বন্ধ করে দেওয়া হলেও এর আগে কেনা পলিসিগুলো এখনও বৈধ রয়েছে।
উ ও ওয়াংয়ের এই গল্প চীনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একজন ব্যবহারকারী মজা করে লিখেছেন, “আমার স্বামী আর আমি কলেজে পরিচিত হয়েছিলাম। এরপর পাঁচ বছর প্রেম করেছি, আর নয় বছর আগে বিয়ে। তখন যদি এই বীমার কথা জানতাম!”















