শরনার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার ও সরকারের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেছেন, রোহিঙ্গারা দীর্ঘ প্রায় নয় বছর ধরে বাংলাদেশে শরণার্থী হিসেবে বসবাস করছেন। মানবিক কারণে বাংলাদেশ সরকার তাদের আশ্রয় দিয়েছে এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা তাদের সহায়তা করে যাচ্ছে।
সৌসি আরবের কিং সালমান হিউম্যানিটারিয়ান এইড অ্যান্ড রিলিফ সেন্টার- কক্সবাজারের ৪২ হাজারা রোঙ্গিাদের জন্য খাদ্য সহায়তা প্রদানের যে কর্মসুচি হাতে নিয়েছে তা বাংলাদেশে ভ্রাতৃপ্রতিম মুসলিমদের বন্ধনকে আরও সুদৃঢ করবে। কারণ সৌদি আররে সরকার ও জনগন বাংলাদেশের যে কোন সংকটে বাংলাদেশের মানুষের পাশে সব সময় থেকেছেন এবং সহায়তার হাত প্রসারিত করেছেন।
তারই ধারাবাহিকতায় এবারও পবিত্র রমজান মাসে এ ধরনের খাদ্য সহায়তা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের খাদ্য চাহিদা পূরণে ও পুষ্টির খাটতি পুরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে তাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা আইএসডিই বাংলাদেশের উদ্যোগে সৌদি আরবের কিং সালমান হিউম্যানিটারিয়ান এইড অ্যান্ড রিলিফ সেন্টারের অর্থায়নে “ ইর্মাজেন্সি ফুড অ্যাসিসটেন্স ফর রোহিঙ্গা অ্যান্ড হোস্ট কমিউনিটিস ইন বাংলাদেশ প্রকল্পের আওতায় গত বুধবার কক্সবাজারের এফডিএমএন ক্যাম্প (উনচিপ্রাং) ২২-এ রোহিঙ্গা পরিবারকে খাদ্য সহায়তা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি প্রধান অতিথির ভাষনে উপরোক্ত মন্তব্য করেন।
আইএসডিই বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ও ক্যাব কেন্দ্রিয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ক্যাম্প-ইন-চার্জ (সিনিয়র সহকারী সচিব) রাজীব চৌধুরী, আইএসডিই কর্মসুচি কর্মকর্তা মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, রোহিঙ্গা রেসপন্স কর্মসুচির প্রোগ্রাম ম্যানেজার মোঃ জসিম উদ্দীন সিদ্দিীকি, কর্মসুচি কর্মকর্তা তাজউদ্দীন, মিল অফিসার মোস্তাক আহমদ, ফিল্ড অফিসার সুপম বড়ুয়া প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধি, আইএসডিই বাংলাদেশের কর্মকর্তাবৃন্দ এবং রোহিঙ্গা কমিউনিটির মাঝি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আইএসডিই বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক এস এম নাজের হোসাইন বলেন, প্রকল্পের আওতায় রোহিঙ্গা শরণার্থী ও স্থানীয় হোস্ট কমিউনিটির দরিদ্র ও ক্ষুদার্থ অসহায় পরিবারগুলোর মাঝে খাদ্য সহায়তা বিতরণ করা হচ্ছে, যার সিংহভাগই রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে প্রদান করা হবে। যার মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে ও পুষ্টির চাহিদা পুরণে সহায়ক হবে। তিনি আরও বলেন, রমজান মাসে অনেক সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের জন্য খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে। এই সহায়তার মাধ্যমে তারা কিছুটা স্বস্তি পাবে ।
অনুষ্ঠানে জানানো হয় আইএসডিই এই প্রকল্পের আওতায় রোহিঙ্গা শরণার্থী ও স্থানীয় হোস্ট কমিউনিটির ৬০ হাজার পরিবারের মাঝে খাদ্য সহায়তা বিতরণ করবে। কক্সবাজারের উনচিপ্রাং এলাকায় এফডিএমএন ক্যাম্প-২২ এ ১৫০০ রোহিঙ্গা পরিবারের মাঝে খাদ্য সহায়তা বিতরণের মধ্য দিয়ে এ কর্মসুচি শুরু করা হয়। এর মধ্যে ৪২ হাজার প্যাকেট রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য এবং ১৮ হাজার প্যাকেট কক্সবাজারের স্থানীয় হোস্ট কমিউনিটির পরিবারের জন্য নির্ধারিত রয়েছে।
প্রকলে।পর আওতায় উপকারভোগীদের মধ্যে রয়েছে বৃদ্ধ, শিশু, বিধবা, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তি এবং বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর সুবিধাবঞ্চিত মানুষ। প্রকল্পের আওতায় প্রতিটি পরিবারকে ১০ কেজি চাল, ৭ কেজি ডাল, ৩ লিটার সয়াবিন তেল, ৩ কেজি চিনি এবং ১ কেজি লবণ দেওয়া হচ্ছে।















