বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে স্থানীয় মুদ্রা ব্যবহারের লক্ষ্যে কারেন্সি সোয়াপ ব্যবস্থা চালুর বিষয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, বৈশ্বিক বাণিজ্য অস্থিরতা ও বৈদেশিক মুদ্রার সংকটের প্রেক্ষাপটে এই উদ্যোগ এখন নীতিনির্ধারণী অগ্রাধিকারে উঠে এসেছে।
এর আগে ২০২৩ সালের জুলাইয়ে ভারতীয় রুপিতে আংশিক বাণিজ্য নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পায়নি। এর প্রধান কারণ ছিল দুই দেশের মধ্যে বড় ধরনের বাণিজ্য ঘাটতি এবং বাজারে পর্যাপ্ত রুপির তারল্যের অভাব।
নতুন প্রস্তাবিত সোয়াপ ব্যবস্থায় বাংলাদেশি টাকা ও ভারতীয় রুপির সরাসরি বিনিময়ের মাধ্যমে বাণিজ্য নিষ্পত্তির পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এতে ডলারের মতো তৃতীয় পক্ষের মুদ্রার ওপর নির্ভরতা কমবে এবং লেনদেন খরচ ও বিনিময় ঝুঁকিও হ্রাস পাবে।
সম্প্রতি ঢাকায় বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ও ভারতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মার মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়। কূটনৈতিক সূত্র জানায়, আলোচনায় তিনটি বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে—বাণিজ্য সহজীকরণ, ডলার নির্ভরতা কমানো এবং আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, এই ব্যবস্থা চালু হলে এলসি (লেটার অব ক্রেডিট) খোলার জটিলতা কমবে এবং আমদানি-রপ্তানিকারকদের জন্য লেনদেন আরও সহজ হবে। পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপও কমবে।
আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেমের সংযুক্তি। ভারতের ইউনিফায়েড পেমেন্টস ইন্টারফেস মডেল অনুসরণ করে সীমান্তপারের লেনদেনকে দ্রুত, স্বচ্ছ ও কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে বড় ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও সাধারণ ভ্রমণকারীরাও উপকৃত হতে পারেন।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, স্থানীয় মুদ্রায় বাণিজ্য নিষ্পত্তি হলে তা আরও পূর্বানুমানযোগ্য ও ব্যয়-সাশ্রয়ী হবে, বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য। একই সঙ্গে এটি বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ধাক্কা থেকে দুই দেশের অর্থনীতিকে কিছুটা সুরক্ষা দেবে।
এছাড়া বস্ত্র, কৃষি ও ওষুধ শিল্পের মতো খাতে নতুন বাণিজ্য সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কম লেনদেন খরচ ও সহজ নিষ্পত্তি প্রক্রিয়া ব্যবসা সম্প্রসারণে সহায়ক হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সোয়াপ চুক্তি চূড়ান্ত হলে তা দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সংহতির একটি মডেল হয়ে উঠতে পারে। ইতোমধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিকল্প পেমেন্ট ব্যবস্থা গড়ে উঠছে, যেমন চীনের রেনমিনবি-ভিত্তিক ক্রস-বর্ডার ইন্টারব্যাংক পেমেন্ট সিস্টেম।
তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উদ্যোগটি সফল করতে হলে দুই দেশের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে সমন্বয় এবং কার্যকর বাস্তবায়ন পরিকল্পনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে।













