ঢাকা || ৩১ মার্চ ২০২৬

অর্থ পাচারের ২০০ মামলা নিয়ে কাজ করছে বাংলাদেশ ব্যাংক

অর্থ পাচারের ২০০ মামলা নিয়ে কাজ করছে বাংলাদেশ ব্যাংক

ব্যাংক ইনফো

প্রকাশিত: ০০:০৩, ১ এপ্রিল ২০২৬

বাংলাদেশ ব্যাংকের অধীনে গঠিত নতুন স্টোলেন অ্যাসেট রিকভারি ডিভিশন দেশের ব্যাংকিং খাতে বড় অঙ্কের খেলাপি ঋণ ঘিরে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে। ইতোমধ্যে প্রায় ২০০টি বড় মামলাকে প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যেখানে প্রতিটি মামলার পরিমাণ গড়ে প্রায় ২০০ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এই ২০০টি মামলায় মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ প্রায় ১২০০ কোটি ডলার বা ১ লাখ  ৪৭ হাজার কোটি টাকা। যদিও কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই পুরো অর্থ আত্মসাৎ হয়েছে—এমনটি নিশ্চিত নয়; বরং কতটুকু অর্থ প্রকৃতপক্ষে পাচার বা আত্মসাৎ হয়েছে, তা যাচাই করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের উপদেষ্টা ফারহানুল গনি চৌধুরী জানান, ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এসব মামলার যাচাই-বাছাই চলছে। তিনি বলেন, “এখন আমরা একটি একক প্ল্যাটফর্মে সমন্বিতভাবে কাজ করছি, যাতে তদন্ত প্রক্রিয়া আরও কাঠামোবদ্ধ হয়।”

বর্তমানে অ্যাসেট রিকভারি বিভাগ প্রায় ৪০টি ব্যাংকের সঙ্গে কাজ করছে এবং যেসব মামলায় একাধিক ব্যাংক জড়িত রয়েছে, সেগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। কারণ একই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান অনেক সময় একাধিক ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে থাকে, ফলে এসব ক্ষেত্রে সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

এই উদ্যোগের প্রথম ধাপে ইতোমধ্যে ১০টি ব্যাংকের সঙ্গে ৩৬টি নন-ডিসক্লোজার এগ্রিমেন্ট স্বাক্ষর হয়েছে। পাশাপাশি ৯টি আন্তর্জাতিক আইন ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান এখন মামলাভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণ শুরু করেছে।

ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের চেয়ারম্যান শরীফ জহির বলেন, আন্তর্জাতিক লিটিগেশন ফান্ডারদের আগ্রহ এখনো আশানুরূপ নয়। তবে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, সঠিক আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অন্তত আংশিক সম্পদ পুনরুদ্ধার সম্ভব।

অ্যাসেট রিকভারি বিভাগের কাঠামোতে একজন পরিচালকসহ প্রায় ১২ জন কর্মকর্তা রয়েছেন। এর মধ্যে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটর একজন পরিচালক, অতিরিক্ত পরিচালক, যুগ্ম পরিচালকসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা কাজ করছেন। প্রযুক্তিগত সহায়তার জন্য একজন আইটি বিশেষজ্ঞও নিয়োগ দেওয়া হবে।

কর্মকর্তারা জানান, কিছু ব্যাংক তাদের তথ্য সঠিকভাবে উপস্থাপন করতে পারলেও অনেক ব্যাংকের ডাটা অগোছালো ও অসম্পূর্ণ। এজন্য অ্যাসেট রিকভারি বিভাগ একটি “বেস্ট প্র্যাকটিস” সেশন আয়োজনের পরিকল্পনা করছে, যেখানে দক্ষ ব্যাংকগুলো অন্যদের প্রশিক্ষণ দেবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫ লাখ  ৫৭ হাজার টাকা।

বিশ্লেষকদের মতে, এই নতুন উদ্যোগ সফল হলে দেশের ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং পাচার হওয়া সম্পদ পুনরুদ্ধারে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হতে পারে।