বিকাশের লোগো
মোবাইল আর্থিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান বিকাশ লিমিটেডের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে ৭৪ লাখ টাকার বেশি স্থানান্তর হয়েছে আওয়ামী লীগের গবেষণা শাখা সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশনের (সিআরআই) ব্যাংক হিসাবে।
২০২১ সালের ১৭ জুন থেকে ২০২৪ সালের ১০ জুলাই পর্যন্ত পাঁচ কিস্তিতে এই টাকা প্রদান করা হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদকের অনুসন্ধানে পাঁচটি ব্যাংকিং লেনদেনের তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
নথিপত্র অনুযায়ী, বিকাশ থেকে ২০২১ সালের ১৭ জুন ১৯ লাখ ৫০ হাজার, ২০২৪ সালের ৬ মে ১৯ লাখ ৫০ হাজার, মোট ৩৯ লাখ টাকা দেওয়া হয়। এই অর্থের একটি অংশ স্ট্যান্ডার্ড চার্টাড ব্যাংকে বিকাশ লিমিটেডের হিসাব এবং অপর অংশ ব্র্যাক ব্যাংকের করপোরেট অ্যাকাউন্ট থেকে ন্যাশনাল ব্যা স্থানান্তর করা হয়।
নথিপত্র অনুযায়ী, ২০২২ সালের ১৭ নভেম্বর বিকাশ থেকে ১৫ লাখ, ২০২৩ সালের ১২ মার্চ ১০ লাখ এবং ২০২৪ সালের ১০ জুলাই ১০ লাখ ৫০ হাজার টাকা, মোট ৩৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা সিআরআইয়ের হিসাবে পাঠানো হয়। এসব অর্থ ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসির করপোরেট হিসাব থেকে অনলাইন ট্রান্সফারের মাধ্যমে প্রদান করা হয় এবং তা ন্যাশনাল ব্যাংকে সিআরআইর একটি হিসাবে জমা হয়।
দুদকের ভাষ্য অনুযায়ী, গবেষণার আড়ালে পরিচালিত কার্যক্রম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপতথ্য ছড়ানোর অভিযোগে আলোচিত এই প্রতিষ্ঠানে দেওয়া অর্থের উৎস ও ব্যবহার বর্তমানে তদন্তাধীন।
দুদকের একাধিক সূত্র জানায়, ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে এই অর্থ স্থানান্তর করা হয়েছে এবং যাচাই করে পাঁচটি লেনদেন নিশ্চিত হয়েছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “ডোনেশনের প্রকৃত উদ্দেশ্য ও অর্থের ব্যবহার খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো আরও দাবি করছে, ২০২৪ সালের ১০ জুলাই দেওয়া সর্বশেষ কিস্তিটি বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় বিভিন্ন কর্মসূচিতে ব্যবহৃত হয়ে থাকতে পারে—এমন প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে। তবে বিষয়টি এখনও যাচাইাধীন।
অর্থ দেওয়ার বিষয়ে বিকাশের হেড অব কমিউনিকেশন শামসুদ্দিন হায়দার ডালিম বলেন, “সিআরআইয়ের একটি পাবলিকেশনকে আমরা ডোনেট করতাম।
অন্যদিকে দুদকের এক কর্মকর্তা জানান, অনুসন্ধানে সিআরআইয়ের এমন কোনো নিয়মিত প্রকাশনার তথ্য পাওয়া যায়নি, যার জন্য ধারাবাহিকভাবে এ পরিমাণ অর্থ প্রদান যৌক্তিক বলে প্রতীয়মান হয়। ফলে অর্থের প্রকৃত ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
দুদকের হাতে আপাতত পাঁচটি লেনদেনের তথ্য থাকলেও তদন্তসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এর বাইরে আরও অর্থ লেনদেন হয়ে থাকতে পারে। ব্যাংকিং চ্যানেলের বাইরের সম্ভাব্য লেনদেনও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
একই সময়ে বিভিন্ন শিল্পগোষ্ঠী থেকেও সিআরআই অর্থ পেয়েছে বলে তথ্য রয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর থেকে ২০২৫ সালের ১০ জুলাই পর্যন্ত ২৩টি শিল্পগোষ্ঠী থেকে অর্থ নেওয়ার তথ্য দুদকের কাছে এসেছে।
উল্লেখ্য, সিআরআইয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ছিলেন সজীব ওয়াজেদ জয়। ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন সায়মা ওয়াজেদ পুতুল এবং ট্রাস্টি হিসেবে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববির নাম রয়েছে।
‘নিবন্ধন ছাড়া’ কর-সুবিধা গ্রহণ, তহবিল আত্মসাৎ ও অর্থপাচারের অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুদক। ওই মামলায় সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সাবেক জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু, সাবেক এনবিআর চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভুইয়া, সাবেক এনবিআর সদস্য রুবানা আরা এবং সিআরআইয়ের এমডিসহ মোট ১৩ জনকে আসামি করা হয়েছে।
দুদক জানিয়েছে, বিকাশের দেওয়া অর্থের উৎস, লেনদেনের প্রেক্ষাপট এবং তা কীভাবে ব্যয় হয়েছে—এসব বিষয় সমন্বিতভাবে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।















