ঢাকা || ০৫ এপ্রিল ২০২৬

মোবাইল ব্যাংকিং সেবা ‘বিলিংক’ আনছে সিটি ব্যাংক

মোবাইল ব্যাংকিং সেবা ‘বিলিংক’ আনছে সিটি ব্যাংক

সিটি ব্যাংকের লোগো

ব্যাংক ইনফো

প্রকাশিত: ২৩:৩৩, ৫ এপ্রিল ২০২৬

বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল আর্থিক খাতে নতুন মাত্রা যোগ করতে যাচ্ছে সিটি ব্যাংক পিএলসি। ‘বিলিংক’ নামে একটি নতুন মোবাইল ব্যাংকিং সেবা চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছে ব্যাংকটি, যা চলতি মাসের শেষ দিকে অথবা আগামী মাসের শুরুতেই আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হতে পারে বলে জানিয়েছেন সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাশরুর আরেফিন।

এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের বিপুল সংখ্যক মোবাইল ফোন ব্যবহারকারী গ্রাহকদের জন্য আরও সহজ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক আর্থিক সেবা নিশ্চিত করতে চায় সিটি ব্যাংক। বর্তমানে বাংলাদেশে মুঠোফোননির্ভর আর্থিক সেবার প্রায় ৬০ শতাংশ গ্রাহকই স্মার্টফোন নয়, বরং ফিচার ফোন ব্যবহার করেন। ফলে এই বড় গ্রাহকগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে নতুন পণ্য ও সেবা উদ্ভাবনের যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। 

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ‘বিলিংক’ শুধু একটি মোবাইল ব্যাংকিং সেবা নয়, বরং একটি সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে—যেখানে গ্রাহকরা একটি অ্যাপ বা ইন্টারফেসের মধ্যেই বিভিন্ন ধরনের আর্থিক সেবা নিতে পারবেন। বৈশ্বিক প্রবণতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এটি ‘সুপার অ্যাপ’ ধারণা অনুসরণ করবে বলে জানা গেছে।

সিটি ব্যাংকের এই ডিজিটাল রূপান্তরের প্রযুক্তিগত অংশীদার হিসেবে কাজ করছে চীনের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠঅন চায়না সিস্টেমস। প্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যে সিটি ব্যাংকের ট্রেড ফাইন্যান্স সেবা ডিজিটালাইজ করতে তাদের এক্সিমবিলস এন্টারপ্রাইজ একং কাস্টমার এন্টারপ্রাইজ প্ল্যাটফর্ম সরবরাহ করেছে। এর মাধ্যমে কাগজনির্ভর প্রক্রিয়া থেকে বেরিয়ে এসে একটি সম্পূর্ণ ডিজিটাল, পেপারলেস এবং টেকসই ট্রেড ফাইন্যান্স ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিশ্বব্যাপী ডিজিটাল ব্যাংকিং খাতে যে পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে, তার প্রতিফলন ঘটাতে চায় সিটি ব্যাংক। বর্তমানে অনেক ডিজিটাল ব্যাংক প্রচলিত ব্যাংকের তুলনায় প্রায় ১০ গুণ কম খরচে পরিচালিত হচ্ছে এবং গ্রাহক অভিজ্ঞতাও উল্লেখযোগ্যভাবে সহজ করছে—যেখানে কোনো কোনো ঐতিহ্যবাহী ব্যাংকে ডিজিটাল সেবা নিতে প্রায় ৯৯টি ক্লিক প্রয়োজন হয়, সেখানে আধুনিক ডিজিটাল ব্যাংক মাত্র ২৪ ক্লিকেই অ্যাকাউন্ট খোলার সুবিধা দিচ্ছে।

সিটি ব্যাংকের এই উদ্যোগে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ব্যাংকটির উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিজানুর রশীদ, যিনি গত বছরের ডিসেম্বরে  উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) ও ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের চিফ বিজনেস অফিসার থেকে সিটি ব্যাংকে যোগ দিয়েছেন। ডিজিটাল আর্থিক সেবায় তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ‘বিলিংক’ সেবাকে দ্রুত জনপ্রিয় করে তুলতে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। কারণ মিজানুর রশীদের ফিনটেক ও ভোক্তা পণ্য খাতে ৩০ বছরের বেশি অভিজ্ঞতা রয়েছে মিজানুর রশীদের। ব্যবসার আকার বৃদ্ধি ও দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধি অর্জনে তার সফলতা উল্লেখযোগ্য।

সর্বশেষ তিনি বিকাশে প্রধান বাণিজ্যিক কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সেখানে তিনি প্রতিষ্ঠানটির জন্য শক্তিশালী ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। এর আগে, তিনি ইউনিলিভারের বাংলাদেশ, ভারত ও উপসাগরীয় অঞ্চলে বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের পদে কাজ করেন। এছাড়াও আগে তিনি দেশের ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোতে দায়িত্ব পালন করেন।

সিটি ব্যাংক জানিয়েছে, তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও কৌশলগত দক্ষতা ব্যাংকের ডিজিটাল কার্যক্রমকে আরো শক্তিশালী করবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাতে এখনো মাত্র ১৫ শতাংশ প্রতিষ্ঠান আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং সেবার আওতায় রয়েছে। এই বিশাল ব্যবধান কমাতে ডিজিটাল ব্যাংকিং ও মোবাইলভিত্তিক আর্থিক সেবাগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ‘বিলিংক’ সেবা চালুর মাধ্যমে সিটি ব্যাংক সেই সুযোগকে কাজে লাগাতে চাচ্ছে।

সব মিলিয়ে, ‘বিলিংক’ চালুর মাধ্যমে সিটি ব্যাংক দেশের ডিজিটাল ব্যাংকিং খাতে নতুন প্রতিযোগিতা তৈরি করবে এবং গ্রাহকদের জন্য আরও সহজ, দ্রুত ও সাশ্রয়ী আর্থিক সেবা নিশ্চিত করার পথে এক ধাপ এগিয়ে যাবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

city-bank
city-bank