উদীয়মান বাজারে দ্রুত বর্ধনশীল ফিনটেক প্ল্যাটফর্ম পামপে বাংলাদেশে তাদের কার্যক্রমকে নতুন মাত্রায় নিয়ে যেতে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জন করেছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক ১০,০০০টি স্মার্টফোন ক্রয়ের অর্থায়নের জন্য এক বছরের একটি পাইলট কর্মসূচি পরিচালনার অনুমোদন দিয়েছে, যা দেশের আর্থিক খাতে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।
এই অনুমোদনের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে এমন একটি নিয়ন্ত্রিত কাঠামো চালু হলো, যা পামপে বাংলাদেশ লিমিটেডকে স্মার্টফোনের সহজপ্রাপ্যতা বাড়ানোর পাশাপাশি আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ত্বরান্বিত করতে সহায়তা করবে। বিশেষ করে নিম্ন-আয়ের ও অনাবৃত জনগোষ্ঠীর জন্য এই উদ্যোগটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।
২০২৪ সালে বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করার পর থেকেই পামপে মোবাইল অপারেটর ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে সেবা প্রদান করে আসছে। তারা স্মার্টফোন কেনার জন্য কার্ডবিহীন কিস্তি সুবিধা চালু করেছে, যা সাধারণ মানুষের জন্য প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগকে সহজ করে তুলছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মতে, স্মার্টফোন বর্তমানে আর্থিক সেবার অন্যতম প্রধান প্রবেশদ্বার। এই পাইলট কর্মসূচির মাধ্যমে স্বল্প আয়ের মানুষ এবং প্রথমবারের মতো স্মার্টফোন ব্যবহারকারীরা সহজ শর্তে ফোন পেতে পারবেন। ফলে তারা ডিজিটাল পেমেন্ট, ব্যাংকিং, শিক্ষা ও যোগাযোগসহ নানা সেবায় অংশগ্রহণ করতে সক্ষম হবেন।
এই উদ্যোগটি দেশের ডিজিটাল অর্থনীতি সম্প্রসারণ এবং নগদহীন লেনদেন ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে সহায়তা করবে। একই সঙ্গে এটি বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি নীতির প্রতিফলন এবং পামপের প্রযুক্তি ও সুশাসনের ওপর আস্থার বহিঃপ্রকাশ।
পামপে বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জুন জেং (ইথান) বলেন, “বাংলাদেশ ব্যাংকের এই অনুমোদন আমাদের জন্য একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক। এটি আমাদের উদ্ভাবনী উদ্যোগ এবং দায়িত্বশীলভাবে ডিজিটাল প্রবেশাধিকার সম্প্রসারণের প্রতিশ্রুতিকে তুলে ধরে। স্মার্টফোন এখন আর্থিক অন্তর্ভুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, এবং এই পাইলট কর্মসূচি আরও বেশি মানুষকে নিরাপদভাবে ডিজিটাল অর্থনীতিতে যুক্ত হতে সহায়তা করবে।”
পামপে একটি বহুজাতিক ফিনটেক প্রতিষ্ঠান, যা আফ্রিকা ও দক্ষিণ এশিয়াসহ বিভিন্ন উদীয়মান বাজারে কার্যক্রম পরিচালনা করছে এবং নাইজেরিয়ার অন্যতম বৃহৎ ডিজিটাল ব্যাংক হিসেবে পরিচিত। প্রতিষ্ঠানটি ডিজিটাল পেমেন্ট, ঋণ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক আর্থিক সেবা প্রদান করে থাকে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশে ডিজিটাল আর্থিক সেবার বিস্তার আরও দ্রুততর হবে এবং প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতির পথে দেশের অগ্রযাত্রা আরও দৃঢ় হবে।













