ঢাকা || ১২ এপ্রিল ২০২৬

ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্সিং স্থবিরতায় অনিশ্চয়তা, হতাশ উদ্যোক্তারা

ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্সিং স্থবিরতায় অনিশ্চয়তা, হতাশ উদ্যোক্তারা

ব্যাংক ইনফো

প্রকাশিত: ০০:১৫, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

দেশে বহুল আলোচিত ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স প্রদান প্রক্রিয়া আবারও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। নতুন সরকারের নীতিগত অবস্থান স্পষ্ট না হওয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংক এখনো অপেক্ষা করছে, ফলে দীর্ঘ সূত্রতায় হতাশ হয়ে পড়েছেন লাইসেন্সপ্রত্যাশী উদ্যোক্তারা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, বর্তমানে ১৩টি প্রতিষ্ঠান—যার মধ্যে রয়েছে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) প্রদানকারী, টেলিকম অপারেটর, বাণিজ্যিক ব্যাংক ও বড় করপোরেট গ্রুপ—ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্সের জন্য আবেদন করেছে। বিভিন্ন যাচাই-বাছাই শেষে ৫টি প্রতিষ্ঠানকে চূড়ান্ত পর্যায়ের জন্য বাছাই করা হলেও এখনো কোনো লাইসেন্স দেওয়া হয়নি।

সূত্র মতে, গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে বিষয়টি উত্থাপন করা হয়েছিল। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একাংশ কর্মকর্তার তীব্র আপত্তির মুখে বৈঠকে কেবল অগ্রগতির বিষয়টি আলোচনা হয়, কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। এরপর অল্প সময়ের মধ্যেই তৎকালীন গভর্নরের পরিবর্তন ঘটে এবং নতুন গভর্নর দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে পুরো প্রক্রিয়াটি কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে।

একজন কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “নতুন সরকারের নীতিগত দিকনির্দেশনা পরিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া এগোনো সম্ভব হচ্ছে না। তাই আপাতত বিষয়টি স্থগিত রয়েছে।”

সময়রেখা (টাইমলাইন):

  • জুন ২০২৩: ডিজিটাল ব্যাংকের নীতিমালা জারি ও আবেদন আহ্বান
  • ২০২৩-২৪: ৫৬টি আবেদন যাচাই-বাছাই
  • মধ্য ২০২৪: ২টি প্রতিষ্ঠানে লেটার অব ইন্টেন্ট পরে ব্যর্থ
  • আগস্ট ২০২৫: নতুন করে আবেদন আহ্বান
  • ফেব্রুয়ারি ২০২৬: ৫টি প্রতিষ্ঠান শর্টলিস্ট, কিন্তু সিদ্ধান্ত স্থগিত

বর্তমানে অপেক্ষা করা হচ্ছে সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তের জন্য।

প্রতিষ্ঠানগুলোর আগ্রহ

লাইসেন্সপ্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছে দেশের শীর্ষ এমএফএস প্রতিষ্ঠান বিকাশ `বিকাশ ডিজিটাল ব্যাংক’ নামে আবেদন করেছে। এছাড়া ভিওন ও স্কয়ার যৌথভাবে ‘নোভা ডিজিটাল ব্যাংক’, টেলিকম অপারেটর রবি ‘বুস্ট’, এবং আকিজ গ্রুপ ‘মুনাফা ইসলামী ব্যাংক’ নামে আবেদন করেছে।

এছাড়াও জাপান-বাংলা ডিজিটাল ব্যাংক (ডিবিএল গ্রুপ), ব্রিটিশ বাংলা ডিজিটাল ব্যাংক, ভুটানভিত্তিক ডিজিটাল ব্যাংক উদ্যোগ, ২২টি ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের ‘আমার ডিজিটাল ব্যাংক’, ১৬ জন উদ্যোক্তার ‘৩৬ ডিজিটাল ব্যাংক’, এনজিওগুলোর ‘আমার ব্যাংক’, যুক্তরাজ্যভিত্তিক বিনিয়োগকারীর ‘অ্যাপ ব্যাংক’, আসার ‘মৈত্রী ডিজিটাল ব্যাংক’ এবং আইটি সল্যুশনসের ‘উপকারী ডিজিটাল ব্যাংক’ রয়েছে তালিকায়।

উদ্যোক্তাদের হতাশা

একটি প্রস্তাবিত ডিজিটাল ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আমরা নিয়মিত বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করছি, কিন্তু কোনো সন্তোষজনক অগ্রগতি নেই। দীর্ঘ বিলম্বে আমাদের প্রস্তুতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “এটা খুবই হতাশাজনক পরিস্থিতি, তবে প্রকাশ্যে কিছু বলা যাচ্ছে না—কারণ এতে লাইসেন্স পাওয়ার সম্ভাবনা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।”

ক্যাশলেস অর্থনীতির পথে বাধা

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নির্ভর ডিজিটাল ব্যাংকিং চালু হলে দেশে ক্যাশলেস অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। কিন্তু লাইসেন্সিং প্রক্রিয়ার এই দীর্ঘসূত্রতা সেই সম্ভাবনাকেই প্রশ্নের মুখে ফেলছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দ্রুত নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা না গেলে এই খাতে বিনিয়োগ ও উদ্ভাবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে।

city-bank
city-bank