ঢাকা || ০৪ জুন ২০২৬

কালো টাকা সাদা করার সুযোগ থাকছে না ২০২৬-২৭ অর্থবছরে

সম্পদ করও আপাতত স্থগিত, মূল্যস্ফীতির চাপে জনস্বস্তিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

কালো টাকা সাদা করার সুযোগ থাকছে না  ২০২৬-২৭ অর্থবছরে

ব্যাংক ইনফো

প্রকাশিত: ০৮:২০, ৪ জুন ২০২৬

আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অপ্রদর্শিত বা কালো টাকা বৈধ করার কোনো সুযোগ থাকছে না। একই সঙ্গে প্রস্তাবিত সম্পদ কর (ওয়েলথ ট্যাক্স) চালুর পরিকল্পনা থেকেও আপাতত সরে এসেছে সরকার। দীর্ঘদিনের উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপে সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এসব প্রস্তাব প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বাজেট প্রণয়নের প্রক্রিয়ায় কালো টাকা সাদা করার সুযোগ এবং সম্পদ কর চালুর বিষয়টি নীতিগতভাবে বিবেচনায় ছিল। তবে এসব প্রস্তাব নিয়ে বিভিন্ন মহলে সমালোচনা সৃষ্টি হওয়ায় সরকার শেষ পর্যন্ত অবস্থান পরিবর্তন করেছে।

একজন ঊর্ধ্বতন কর কর্মকর্তা বুধবার জানান, অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ করার সুযোগ করব্যবস্থার ন্যায়সংগত কাঠামোকে দুর্বল করে এবং নিয়মিত করদাতাদের মধ্যে নেতিবাচক বার্তা দেয়। এ কারণে প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি পুনর্বিবেচনার নির্দেশ দেন এবং শেষ পর্যন্ত প্রস্তাবটি বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

তিনি বলেন, "বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় করব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা বৃদ্ধি এবং সুশাসন নিশ্চিত করাই সরকারের অগ্রাধিকার। তাই কালো টাকা সাদা করার কোনো সুযোগ রাখা হচ্ছে না।"

একই সঙ্গে ফ্রিল্যান্সার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের ওপর আরোপিত সব ধরনের কর প্রত্যাহারেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মোটরসাইকেল মালিক এবং ব্যাটারিচালিত রিকশার ওপর নতুন কর আরোপের পরিকল্পনাও বাতিল করা হয়েছে।

এদিকে সম্পদ কর চালুর প্রস্তাব প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন, পূর্ণাঙ্গ প্রভাব মূল্যায়ন ছাড়া এ ধরনের কর আরোপ করা যাবে না। কর কর্মকর্তারা জানান, অতীতে বাংলাদেশে সম্পদ কর প্রত্যাশিত ফল দেয়নি। প্রতিবেশী ভারতও একসময় এ করব্যবস্থা বাতিল করেছে।

তবে সরকার ব্যক্তি ও করপোরেট করব্যবস্থার জন্য পাঁচ বছরের একটি রোডম্যাপ তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী চার বছর করপোরেট করহার অপরিবর্তিত থাকবে এবং পঞ্চম বছরে সামান্য হ্রাস করা হতে পারে।

কর প্রশাসনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হলো, কোনো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান লোকসানে থাকলে তার কাছ থেকে আদায় করা ন্যূনতম কর ভবিষ্যতে ফেরত বা সমন্বয়ের সুযোগ থাকবে। বর্তমানে লাভ-লোকসান নির্বিশেষে কোম্পানিগুলোকে ন্যূনতম কর দিতে হয়, যা ফেরতযোগ্য নয়।

অর্থনীতিবিদ ও পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. মাসরুর রিয়াজ সরকারের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, "কালো টাকা সাদা করার সুযোগ বাতিল করব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার জন্য ইতিবাচক পদক্ষেপ। এ ধরনের সুবিধা কর-অনুগত্যকে নিরুৎসাহিত করে এবং সুশাসনের পথে বাধা সৃষ্টি করে।"

তার মতে, করব্যবস্থার সততা ও বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষার স্বার্থে অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ করার বিশেষ সুযোগ না দেওয়াই উচিত। তবে বৈধ কিন্তু পূর্বে ঘোষণা না করা আয়কে নির্ধারিত কর ও জরিমানার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক অর্থনীতিতে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।

অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, কালো টাকা সাদা করার সুযোগ বাতিলের সিদ্ধান্ত সরকারের সুশাসন ও কর-সংস্কার উদ্যোগের প্রতি দৃঢ় অবস্থানের ইঙ্গিত বহন করছে। একই সঙ্গে এটি নিয়মিত করদাতাদের জন্য একটি ইতিবাচক বার্তাও হিসেবে বিবেচিত হবে।

city-bank
city-bank