ঢাকা || ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

বিমা খাতে অনিয়ম দমনে আইডিআরএকে ‘তল্লাশি ও জব্দ’ ক্ষমতা দিতে উদ্যোগ সরকারের

বিমা খাতে অনিয়ম দমনে আইডিআরএকে ‘তল্লাশি ও জব্দ’ ক্ষমতা দিতে উদ্যোগ সরকারের

ব্যাংক ইনফো

প্রকাশিত: ০০:২৯, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

বিমা খাতে জালিয়াতি, অনিয়ম ও দুর্নীতি দমনে বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)-কে তল্লাশি ও জব্দ করার ক্ষমতা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে বিদ্যমান আইনে সংশোধনী আনার প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

আইডিআরএ চেয়ারম্যান ড. এম আসলাম আলম এ উদ্যোগের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “বর্তমান আইনে আমাদের তল্লাশি ও জব্দ করার কোনো ক্ষমতা নেই। এই ক্ষমতা যুক্ত করতেই আইন সংশোধনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।”

বর্তমানে আইডিআরএ বিমা কোম্পানির কাছে তথ্য চাইতে পারে কিংবা পরিদর্শন দল পাঠাতে পারে। তবে কোনো প্রতিষ্ঠান সহযোগিতা না করলে নিয়ন্ত্রকের হাতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ খুবই সীমিত। ড. আসলাম আলম বলেন, “আমরা সর্বোচ্চ জরিমানা করতে পারি। সেই জরিমানা দেওয়া না হলেও এর বাইরে আমাদের কিছু করার নেই।”

এ ধরনের ক্ষেত্রে পাবলিক ডিমান্ডস রিকভারি (পিডিআর) আইনে মামলা করতে হয়, যা বছরের পর বছর ঝুলে থাকে। ফলে বাস্তবে আইন প্রয়োগ কার্যকর হয় না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

প্রস্তাবিত সংশোধনী অনুযায়ী, লাইফ ও নন-লাইফ উভয় বিমা কোম্পানির ক্ষেত্রেই আইডিআরএকে তল্লাশি ও জব্দ করার ক্ষমতা দেওয়া হবে। কোনো কোম্পানি তদন্তে সহযোগিতা না করলে বা নির্দিষ্ট তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানালে নিয়ন্ত্রক সংস্থা সরাসরি তল্লাশি চালিয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও কম্পিউটার জব্দ করতে পারবে।

ড. আসলাম আলম বলেন, “ভারতের বিমা আইনে এ ধরনের ক্ষমতা রয়েছে। বাংলাদেশে শুল্ক বিভাগ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং আয়কর কর্তৃপক্ষের কাছেও তল্লাশি ও জব্দের ক্ষমতা আছে।”

তিনি আরও বলেন, কিছু ক্ষেত্রে বিমা কোম্পানির প্রধান কার্যালয় দীর্ঘদিন তালাবদ্ধ থাকে এবং সেখানে কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী পাওয়া যায় না। “এমন অবস্থায় তালা ভেঙে প্রবেশ করলে আমার বা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ডাকাতির মামলা পর্যন্ত হতে পারে—এমন ঘটনা আগেও ঘটেছে,” বলেন আইডিআরএ চেয়ারম্যান।

আইডিআরএ অভিযোগ করছে, কিছু বিমা কোম্পানি নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে আংশিক তথ্য দেয়। “কিছু কোম্পানি দুটি ডেটাবেস রাখে—একটি আমাদের দেখায়, আরেকটি নিজেদের ব্যবহারের জন্য। এটি স্পষ্ট অনিয়ম। এসব অনিয়ম ধরতে হলে কম্পিউটার জব্দসহ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা প্রয়োজন,” বলেন ড. আলম।

আইডিআরএর মতে, বিমা খাতে ব্যাপক জালিয়াতি ও অনিয়মই খাতটির বর্তমান সংকটের অন্যতম কারণ। গ্রাহকের স্বার্থ রক্ষা ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে তল্লাশি ও জব্দের ক্ষমতা অত্যন্ত জরুরি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুইটি শীর্ষ বিমা কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসকে জানান, নেতিবাচক প্রচারের মূল লক্ষ্য মূলত আর্থিকভাবে দুর্বল কিছু লাইফ বিমা কোম্পানি, যারা বিমা দাবি পরিশোধে অক্ষম। তাদের মতে, দুর্বল নিয়ন্ত্রক কাঠামোই এ ধরনের সমস্যার অন্যতম কারণ।

একজন সিইও বলেন, লাইফ বিমা কোম্পানিগুলোর ক্ষেত্রে প্রথম আট বছরে ব্যয় তুলনামূলক কম থাকে, কারণ অধিকাংশ পলিসির মেয়াদ কমপক্ষে ১০ বছর। এ সময়ে প্রিমিয়ামের অর্থ অনেক সময় কোম্পানির নিজস্ব তহবিল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। শক্তিশালী নজরদারি থাকলে এ ধরনের পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব হতো বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এ বিষয়ে এসএমএসি অ্যাডভাইজরি সার্ভিসেসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক স্নেহাশীষ বড়ুয়া বলেন, তল্লাশি ও জব্দ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশলগত কাঠামো থাকা জরুরি। তিনি বলেন, উচ্চপর্যায়ের অনুমোদন, আইনি কাঠামোর মধ্যে থেকে অভিযান পরিচালনা, কী কী জব্দ করা হলো তার বিস্তারিত নথিভুক্তকরণ এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে প্রতিবেদন দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি আরও বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠান যদি হয়রানির শিকার হয়েছে বলে মনে করে, সে ক্ষেত্রে বিমা কোম্পানির স্বার্থ রক্ষায় আইডিআরএর ভেতরে একটি অভিযোগ ব্যবস্থাপনা সেল থাকা প্রয়োজন।

city-bank
city-bank