ঢাকা || ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

সঞ্চয়পত্রে ফের ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি, বাড়ছে আগ্রহ

সঞ্চয়পত্রে ফের ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি, বাড়ছে আগ্রহ

ব্যাংক ইনফো

প্রকাশিত: ০১:০৬, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথমার্ধে (জুলাই-ডিসেম্বর) রাষ্ট্রীয় সঞ্চয়পত্রে নিট বিক্রি আবারও ইতিবাচক ধারায় ফিরেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের (বিবি) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এ সময়ে সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রি দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৪৬১ কোটি টাকা, যেখানে আগের অর্থবছরের একই সময়ে নিট বিক্রিতে ছিল ২ হাজার ২৪৪ কোটি টাকার নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি।

চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে মাসভিত্তিক হিসাবেও সঞ্চয়পত্র বিক্রিতে ধীরে ধীরে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। বিশেষ করে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে নিট বিক্রি হয়েছে ৩৮৫ কোটি টাকা, যা ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ৩ হাজার ৯২১ কোটি টাকার নিট উত্তোলনের তুলনায় উল্লেখযোগ্য পুনরুদ্ধারের ইঙ্গিত দেয়।

তবে নিট বিক্রি বাড়লেও মোট স্থিতি বা আউটস্ট্যান্ডিং ব্যালান্সে সামান্য পতন লক্ষ্য করা গেছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে সঞ্চয়পত্রের মোট স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৪১ হাজার কোটি টাকা, যা এক বছর আগে ছিল প্রায় ৩ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এই প্রবৃদ্ধি মূলত সুদের হার, মূল্যস্ফীতি ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে গৃহস্থালি সঞ্চয় আচরণের পুনর্মূল্যায়নের প্রতিফলন।

পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. মাসরুর রিয়াজ বলেন, “নিট বিক্রি আবার ইতিবাচক হওয়া খুচরা সঞ্চয়কারীদের আস্থার পুনরুদ্ধারের ইঙ্গিত দেয়। অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার সময়ে ঝুঁকিমুক্ত বিনিয়োগ হিসেবে সরকারি সঞ্চয়পত্র এখনো ছোট ও নির্দিষ্ট আয়ের মানুষের কাছে আকর্ষণীয়।”

তিনি আরও বলেন, “মূল্যস্ফীতি নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং পুঁজিবাজারে ঝুঁকি বেশি থাকায় অনেক বিনিয়োগকারী আবার নিরাপদ খাতে ফিরে আসছেন।”

তবে ড. মাসরুর রিয়াজ মনে করেন, কাঠামোগত সংস্কারের কারণে আগের মতো বড় অঙ্কের প্রবাহ আর সম্ভব নয়। “ভবিষ্যতে সঞ্চয়পত্রে অতীতের মতো অস্বাভাবিক উচ্চ প্রবাহ দেখা যাবে না। তবে স্থিতিশীল ও মাঝারি মাত্রার নিট বিক্রি গৃহস্থালি সঞ্চয়কে উৎসাহিত করবে এবং সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণ ব্যবস্থাপনায় চাপ কমাবে,” বলেন তিনি।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে চালু হওয়া জাতীয় সঞ্চয়পত্র অনলাইন ব্যবস্থাপনা সিস্টেমের আওতায় বাধ্যতামূলক ই-টিআইএন ও জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাই চালু হওয়ায় প্রাতিষ্ঠানিক ও উচ্চমূল্যের জল্পনামূলক বিনিয়োগ কার্যকরভাবে নিরুৎসাহিত হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতে সঞ্চয়পত্র বিক্রির গতিপথ অনেকাংশে নির্ভর করবে ব্যাংক খাতের সুদের হার, মূল্যস্ফীতির প্রবণতা এবং সরকারের সামগ্রিক ঋণ গ্রহণ কৌশলের ওপর।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সঞ্চয়পত্র বিক্রিতে ঘাটতি দাঁড়িয়েছিল ৬ হাজার ৬৩ কোটি টাকা, যেখানে আগের অর্থবছর ২০২৩-২৪ সালে এ ঘাটতির পরিমাণ ছিল ২ হাজার ১১২ কোটি টাকা।

city-bank
city-bank