ঢাকা || ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ৩০ কোটি ডলারের দ্বিতীয় কিস্তি ঋণ দিচ্ছে এডিবি

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ৩০ কোটি ডলারের দ্বিতীয় কিস্তি ঋণ দিচ্ছে এডিবি

ব্যাংক ইনফো

প্রকাশিত: ০১:১০, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

দীর্ঘদিনের বিলম্বে জর্জরিত ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে নতুন করে গতি আনতে দ্বিতীয় কিস্তিতে ৩০ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ দিতে যাচ্ছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি এ বিষয়ে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) ও এডিবির মধ্যে আনুষ্ঠানিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
ইআরডির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, “দ্বিতীয় কিস্তির ৩০ কোটি ডলারের ঋণ চূড়ান্ত করতে আমরা ৯ ফেব্রুয়ারি এডিবির সঙ্গে আলোচনায় বসছি। ব্যাংকটি ইতোমধ্যে ছয় লেনের সড়ক নির্মাণে এই অর্থ ছাড়ের বিষয়ে সবুজ সংকেত দিয়েছে।”

২ দশমিক ৬৯ বিলিয়ন ডলারের ঢাকা-সিলেট করিডর সড়ক প্রকল্পটি গত পাঁচ বছর ধরে নানা জটিলতায় আটকে রয়েছে। প্রকল্পটি ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও বর্তমান অগ্রগতি বিবেচনায় সময়মতো বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রকল্প শুরুর পাঁচ বছর পরও ২১০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই মহাসড়কের কাজ শেষ হয়েছে মাত্র প্রায় ৬০ শতাংশ। ফলে সড়কের বড় একটি অংশ এখনো বেহাল অবস্থায় রয়েছে, যা প্রতিদিন লাখো যাত্রীর জন্য ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (আরএইচডি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের প্যাকেজ-১-এর কাজ শেষ হয়েছে ৬২ শতাংশ এবং প্যাকেজ-২-এর কাজ শেষ হয়েছে ৫৫ শতাংশ।

প্রকল্পটির মোট ব্যয়ের মধ্যে এডিবি চার কিস্তিতে মোট ১ দশমিক ৭৮ বিলিয়ন ডলার ঋণ দেওয়ার কথা রয়েছে। বাকি ৯১১ মিলিয়ন ডলার সরকার নিজস্ব তহবিল থেকে বহন করবে। স্থানীয় মুদ্রায় প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৬৯ হাজার ১৯০ কোটি টাকা।

প্রকল্প পরিচালক এ কে মোহাম্মদ ফজলুল করিম জানান, ভূমি অধিগ্রহণসংক্রান্ত জটিলতা ও ইউটিলিটি স্থানান্তরে দীর্ঘসূত্রতার কারণে কাজের গতি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। তিনি বলেন, “বর্তমান পরিস্থিতিতে ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্প শেষ করা আর সম্ভব নয়।”

ইআরডি সূত্র জানায়, ৯ ফেব্রুয়ারির বৈঠকে দক্ষিণ এশীয় উপ-আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা (সাসেক) ঢাকা-সিলেট করিডর সড়ক বিনিয়োগ প্রকল্পের আওতায় দ্বিতীয় কিস্তির ৩০ কোটি ডলারের ঋণ চূড়ান্ত হওয়ার কথা রয়েছে। এই অর্থ প্রকল্প বাস্তবায়নে নতুন গতি সঞ্চার করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এডিবির বহুকিস্তির (এমএফএফ) এই অর্থায়নের লক্ষ্য বিদ্যমান দুই লেনের সড়ককে আধুনিক ছয় লেনে উন্নীত করা। প্রকল্পের আওতায় ৬৬টি সেতু, ৩০৫টি কালভার্ট ও ওভারপাস, ছয়টি রেলওয়ে ওভারব্রিজ, ৩৭টি ইউটার্ন এবং ২৬টি ফুটব্রিজ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। পুরো প্রকল্পটি ১৩টি প্যাকেজে ভাগ করে বিভিন্ন ঠিকাদারকে কাজ দেওয়া হয়েছে।

আরএইচডির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ঢাকা-সিলেট মহাসড়ককে বাংলাদেশের একটি কৌশলগত “বাণিজ্যিক ধমনী” হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, প্রকল্পের ধীরগতির কারণে এটি দীর্ঘদিন ধরেই সমালোচনার মুখে। “নতুন ৩০ কোটি ডলারের অর্থায়ন মহাসড়কের নির্মাণকাজ দ্রুত এগিয়ে নিতে সহায়ক হবে,” বলেন তিনি।

প্রকল্পের মাধ্যমে ধীরগতির যানবাহনের জন্য পৃথক লেন নির্মাণ, সড়ক নিরাপত্তা বৃদ্ধি এবং নারী, শিশু ও প্রবীণদের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক ফুটপাত, ফুটব্রিজ ও ওভারপাস নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।

ছয় লেনের মহাসড়কটি সম্পন্ন হলে এটি উত্তর-পূর্ব বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডরের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত হবে। চট্টগ্রাম বন্দরকে আখাউড়া, শেওলা ও তামাবিল স্থলবন্দর হয়ে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত করবে এই করিডর, যা উপ-আঞ্চলিক বাণিজ্যের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে।

আরএইচডির ওই কর্মকর্তা বলেন, “এই করিডর শুধু একটি সড়ক নয়; এটি ভারত, ভুটান ও মিয়ানমারের সঙ্গে বাণিজ্যের প্রবেশদ্বার।”

এদিকে, সিলেট-তামাবিল ছয় লেনের সড়ক প্রকল্পে ভারতের সঙ্গে আন্তঃসীমান্ত সংযোগ জোরদারে এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংক (এআইআইবি) অর্থায়ন করছে।

city-bank
city-bank