ঢাকা || ০৯ মার্চ ২০২৬

মেয়াদ পূর্তির আগেই এমটিডিআরের মুনাফা উত্তোলন করেছেন স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের পরিচালক হোসাইন

মেয়াদ পূর্তির আগেই এমটিডিআরের মুনাফা উত্তোলন করেছেন স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের পরিচালক হোসাইন

স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকেরপরিচালক এস. এ. মো. হোসাইন

ব্যাংক ইনফো

প্রকাশিত: ০০:১৪, ১০ মার্চ ২০২৬

নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে বেসরকারি খাতের স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকেরপরিচালক এস. এ. মো. হোসাইনের বিরুদ্ধে বিপুল অঙ্কের ফিক্সড ডিপোজিটের মেয়াদ পূর্তির আগেই মুনাফা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি ৮ কোটি ২৮ লাখ ৪৪ হাজার ৯৬৫ টাকার আমানতের বিপরীতে ১০ লাখ ৩৫ হাজার ৭৯৪ টাকা মুনাফা তুলে নিয়েছেন।

ব্যাংকিং নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো গ্রাহক মেয়াদ পূর্তির আগেই ফিক্সড ডিপোজিট নগদায়ন করলে সাধারণত সর্বোচ্চ ২ শতাংশ হারে মুনাফা পাওয়ার সুযোগ থাকে। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, প্রভাব খাটিয়ে এ ক্ষেত্রে ১২ দশমিক ৫০ শতাংশ হারে মুনাফা প্রদান করা হয়েছে।

জানা গেছে, রাজধানীর গুলশান-১ শাখায় এস. এ. মো. হোসাইন, শোহানা হোসেন ও সাব্বিয়া হোসেনের নামে ১৪টি এমটিডিআর  হিসাব ছিল। এসব হিসাব অগ্রিম ভাঙানোর বিপরীতে মোট ৮ কোটি ২৮ লাখ ৪৪ হাজার ৯৬৫ টাকার আমানতের ওপর ১২ দশমিক ৫০ শতাংশ হারে ১০ লাখ ৩৫ হাজার ৭৯৪ টাকা মুনাফা পরিশোধ করা হয়।

ব্যাংকের নথি অনুযায়ী, গত বছরের ২৭ নভেম্বর গুলশান-১ শাখা থেকে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়, যাতে ১৪টি এমটিডিআর অগ্রিম ভাঙানোর ক্ষেত্রেও আগের মতো ১২ দশমিক ৫০ শতাংশ মুনাফা হার বহাল রাখার অনুমতি দেওয়া হয়। ওই গ্রাহকরা দীর্ঘদিন ধরে গুলশান-১ শাখায় বিশেষ মুনাফা হারে এমটিডিআর হিসাব পরিচালনা করে আসছিলেন। এছাড়া তাদের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ আমানত এমটিডিআর ও এমএসএনডি হিসাবেও ছিল।

নথিতে বলা হয়েছে, কিছু অনিবার্য কারণে গ্রাহকরা তাদের এমটিডিআর হিসাব বন্ধ করে পুনরায় খোলার অনুরোধ জানান। যেহেতু তারা একই ব্যাংকে আমানত অব্যাহত রাখতে চেয়েছেন, তাই শাখা কর্তৃপক্ষ আংশিক মেয়াদের জন্যও একই মুনাফা হার বহাল রাখার অনুমতি চায়। পরে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ১২ দশমিক ৫০ শতাংশ হারে মোট ১০ লাখ ৩৫ হাজার ৭৯৪ টাকা মুনাফা প্রদানের অনুমোদন দেয়।

হিসাব অনুযায়ী, মোট আমানত ছিল ৮ কোটি ২৮ লাখ ৪৪ হাজার ৯৬৫ টাকা। এর বিপরীতে ১২ দশমিক ৫০ শতাংশ হারে মোট মুনাফা দাঁড়ায় ১০ লাখ ৩৫ হাজার ৭৯৪ টাকা। এর মধ্যে ২ শতাংশ হিসেবে আগেই ১ লাখ ১৯ হাজার ২১৮ টাকা দেওয়া হয়েছিল। পরে অবশিষ্ট ৯ লাখ ১৬ হাজার ৫৭৬ টাকা পরিশোধ করা হয়।

ব্যাংকিং বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী ফিক্সড ডিপোজিট খোলার পর সাধারণত তিন মাস পূর্ণ না হলে তা নগদায়ন করা যায় না। তিন মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই নগদায়ন করলে গ্রাহক শুধু আসল টাকা ফেরত পান, কোনো সুদ পান না। আর তিন মাস পার হওয়ার পর কিন্তু নির্ধারিত মেয়াদের আগে নগদায়ন করলে সাধারণত সঞ্চয়ী হিসাবের হারে সুদ দেওয়া হয়, যা সাধারণত অনেক কম।

বিশ্লেষকদের মতে, একজন ব্যাংক পরিচালক নিজের ব্যাংকে এভাবে মেয়াদ পূর্তির আগেই উচ্চহারে মুনাফা উত্তোলন করলে তা ব্যাংকিং শৃঙ্খলার পরিপন্থী এবং এতে সাধারণ গ্রাহকের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

এ বিষয়ে এস. এ. মো. হোসাইনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে বিশ্লেষকরা এই অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ব্যাংক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি গ্রাহকের কাছ থেকে অতিরিক্ত মুনাফার অর্থ ফেরত নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

city-bank
city-bank