রাষ্ট্রমালিকানাধীন সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়া। গতকাল সোমবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব বরাবর তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন। এ ছাড়া পদত্যাগপত্র পাঠান বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থমন্ত্রীর একান্ত সচিব ও চলতি দায়িত্বে থাকা ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছেও।
পদত্যাগপত্রে মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়া উল্লেখ করেছেন, ব্যক্তিগত কারণে তিনি সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করছেন। গত বছরের ৭ ডিসেম্বর তাঁকে এই ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের প্রথম চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তিনি সরকারের সাবেক সচিব।
পদত্যাগের বিষয়ে জানতে মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়ার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাড়া দেননি। তবে তাঁর ঘনিষ্ঠ একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন,অন্তর্বর্তী সরকার তাঁকে চেয়ারম্যান নিয়োগ দিয়েছিল। বর্তমান সরকার তাঁকে সরিয়ে দিতে পারে, এই আশঙ্কায় তিনি পদত্যাগ করেন। তিনি জামায়াত–ঘনিষ্ঠ ইবনে সিনা ট্রাস্টেরও পরিচালক।
তারল্য-সংকটে থাকা এক্সিম, সোশ্যাল ইসলামী, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, গ্লোবাল ইসলামী ও ইউনিয়ন ব্যাংক—এই পাঁচ ব্যাংক মিলে গঠিত হয়েছে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক। ব্যাংকটির অনুমোদিত মূলধন ৪০ হাজার কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন ৩৫ হাজার কোটি টাকা। পরিশোধিত মূলধনের মধ্যে সরকার ২০ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে। বাকি ১৫ হাজার কোটি টাকা আমানতকারীদের শেয়ার থেকে আসবে।
এদিকে ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে নানা প্রক্রিয়া শেষে নাবিল মুস্তাফিজুর রহমানকে নিয়োগ দেয় সরকার। তিনি ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ইউসিবি) অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা এএমডি। তবে নিয়োগের পরও ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে তিনি যোগ দেননি। এখন নতুন এমডি নিয়োগে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। এমডির পাশাপাশি এখন নতুন চেয়ারম্যানও নিয়োগ দিতে হবে সরকারকে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, ঈদের পর নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়া হবে। এমডির জন্য আবেদনপত্র যাচাই–বাছাই শেষে নিয়োগ দেওয়া হবে।
নিরীক্ষা প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, একীভূত হওয়ার প্রক্রিয়ায় থাকা শরিয়াহভিত্তিক পাঁচ ব্যাংকে জমা থাকা আমানতের পরিমাণ ১ লাখ ৫৮ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা। আর ব্যাংকগুলোর বিতরণকৃত ঋণ ১ লাখ ৯১ হাজার ৫৮৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে ১ লাখ ৪৬ হাজার ৯১৮ কোটি টাকা খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। সে হিসাবে ব্যাংকগুলোর বিতরণকৃত ঋণের ৭৬ দশমিক ৬৯ শতাংশই খেলাপি। সারা দেশে ৭৬১টি শাখায় ১৮ হাজার ৮১ জন কর্মী এই ব্যাংকগুলোতে কর্মরত রয়েছেন।











