ঢাকা || ১৩ মার্চ ২০২৬

এসএসসিতে থার্ড ডিভিশন: মিথ্যা তথ্য দিয়ে চাকরি হারান শেখ মারুফ

এসএসসিতে থার্ড ডিভিশন: মিথ্যা তথ্য দিয়ে চাকরি হারান শেখ মারুফ

ব্যাংক ইনফো

প্রকাশিত: ০০:৪৯, ১৪ মার্চ ২০২৬

এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে ভুল তথ্য দেওয়ার অভিযোগে শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করতে হয়েছে শেখ মোহাম্মদ মারুফকে। দায়িত্ব গ্রহণের এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে ঢাকা ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) পদ থেকে সরে দাঁড়ান তিনি।

ঢাকা ব্যাংক ও বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, শেখ মারুফ ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর ঢাকা ব্যাংকের এমডি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তবে পরে তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা যাচাই করতে গিয়ে অসঙ্গতি ধরা পড়ে। ২০২৫ সালের ২৪ আগস্ট পদ্যতাগ করেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, শেখ মারুফ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফাইন্যান্স বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায়ও তাঁর ফল ভালো ছিল। কিন্তু মাধ্যমিক বা এসএসসি পরীক্ষায় তিনি তৃতীয় বিভাগ (থার্ড ডিভিশন) পেয়েছিলেন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিমালায় বলা আছে, ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পেতে স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ন্যূনতম স্নাতকোত্তর ডিগ্রি থাকতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষাজীবনের কোনো পর্যায়ে তৃতীয় বিভাগ বা শ্রেণি থাকা যাবে না। গ্রেডিং পদ্ধতির ক্ষেত্রে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৩.০০-এর কম হলে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সিজিপিএ ৪.০০ স্কেলে ২.৫০ বা ৫.০০ স্কেলে ৩.০০-এর কম হলে তা গ্রহণযোগ্য নয়।

সূত্র জানায়, ঢাকা ব্যাংকে যোগদানের আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে পাঠানো জীবনবৃত্তান্তে শেখ মারুফ উল্লেখ করেছিলেন যে তিনি এসএসসি পরীক্ষায় দ্বিতীয় বিভাগ (সেকেন্ড ক্লাস) পেয়েছেন। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংক তাঁর সনদ যাচাই করে দেখতে পায়, তিনি প্রকৃতপক্ষে তৃতীয় বিভাগ পেয়েছিলেন।

এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে তাঁর কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি কোনো জবাব না দিয়ে পদত্যাগ করেন বলে জানা গেছে।

এর আগে শেখ মারুফ সিটি ব্যাংক পিএলসির অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এডিএমডি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

এ বিষয়ে জানতে তাঁর সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ঢাকা ব্যাংকের চেয়ারম্যান আবদুল হাই সরকার বলেন, আমাদের সঙ্গে তাঁর কোনো সমস্যা হয়নি। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের কিছু নিয়ম পরিপালনে তিনি ব্যর্থ হয়েছেন। তাঁর পদত্যাগপত্র পরিচালনা পর্ষদের সভায় গ্রহণ করা হয়েছে এবং পরে নতুন এমডি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে আর্থিক খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, ব্যাংকের মতো স্পর্শকাতর প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়োগ পেতে যদি কেউ ভুল বা বিভ্রান্তিকর তথ্য দেন, তাহলে তা আর্থিক খাতের প্রতি মানুষের আস্থার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

তাঁদের প্রশ্ন, একটি ব্যাংকের এমডি যদি ভুল তথ্য দিয়ে নিয়োগ পেতে পারেন, তাহলে সেই প্রতিষ্ঠানে জনগণের হাজার হাজার কোটি টাকার আমানত কতটা নিরাপদ—এমন প্রশ্নই এখন অনেকের মুখে মুখে। 

city-bank
city-bank