ঢাকা || ১৭ মার্চ ২০২৬

ঈদ সামনে রেখে রেমিট্যান্সে জোয়ার, তবে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা

ঈদ সামনে রেখে রেমিট্যান্সে জোয়ার, তবে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা

ব্যাংক ইনফো

প্রকাশিত: ০০:৩৪, ১৮ মার্চ ২০২৬

ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহে উল্লেখযোগ্য উল্লম্ফন দেখা যাচ্ছে, যা দেশের বৈদেশিক খাতে বড় ধরনের স্বস্তি এনে দিয়েছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ভবিষ্যতে এই প্রবাহে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, চলতি মাসের প্রথম ১৫ দিনেই প্রায় ২ দশমিক ৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স দেশে এসেছে। একই সময় গত বছরের ১ দশমিক ৬৬ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় যা প্রায় ৪৭ দশমিক ১০ শতাংশ বেশি। সংশ্লিষ্ট সময়ের জন্য প্রকৃত প্রাপ্তি দাঁড়িয়েছে ২ দশমিক ৪৪ বিলিয়ন ডলার।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, ঈদ উপলক্ষে প্রবাসী বাংলাদেশিদের আগাম পরিকল্পিত অর্থ পাঠানোর প্রবণতাই এই উচ্চ প্রবাহের মূল কারণ। প্রতি বছর ঈদকে কেন্দ্র করে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ার একটি মৌসুমি ধারা লক্ষ্য করা যায়, এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি।

তবে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা—বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে সামরিক হামলার পর সৃষ্ট পরিস্থিতি—নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। যদিও এখন পর্যন্ত রেমিট্যান্স প্রবাহে এর কোনো বড় নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি, বরং প্রবাহ আগের তুলনায় বেড়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, “বর্তমান উচ্চ রেমিট্যান্স প্রবাহ মূলত ঈদকে সামনে রেখে প্রবাসীদের আগাম সহায়তার ফল। তবে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে আগামী মাস থেকে এর প্রভাব দেখা যেতে পারে।”

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত ‘অক্টোবর-ডিসেম্বর (অর্থবছর ২০২৫-২৬) রেমিট্যান্স প্রবাহ বিষয়ক ত্রৈমাসিক প্রতিবেদন’-এও একই ধরনের সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে অভিবাসন কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে এবং প্রবাসী আয়ের ওপর অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে, যা রেমিট্যান্স প্রবাহকে ধীরগতির দিকে ঠেলে দিতে পারে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে বিপুল সংখ্যক প্রবাসী কর্মীর কারণে রেমিট্যান্স প্রবাহ শক্তিশালী থাকলেও, নতুন শ্রমবাজারে প্রবেশের সুযোগ কমে গেলে এবং আয় কমে গেলে সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি হ্রাস পেতে পারে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সংঘাতের স্থায়িত্ব ও বিস্তৃতির ওপরই মূলত নির্ভর করবে এর প্রভাবের মাত্রা। স্বল্পমেয়াদি উত্তেজনা হলে প্রভাব সীমিত থাকতে পারে, তবে দীর্ঘমেয়াদি আঞ্চলিক সংকট দেখা দিলে দেশের বৈদেশিক খাতে চাপ বাড়তে পারে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, এমন পরিস্থিতিতে বিকল্প শ্রমবাজার খোঁজা, বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স প্রেরণে প্রণোদনা বৃদ্ধি এবং প্রবাসী কর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি হয়ে পড়েছে।

সামগ্রিকভাবে, ঈদকে ঘিরে রেমিট্যান্সে স্বস্তি মিললেও মধ্যপ্রাচ্যের অনিশ্চয়তা দেশের অর্থনীতির জন্য একটি বড় ঝুঁকি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

city-bank
city-bank