ঢাকা || ০৫ জুন ২০২৬

ইবিএল চেয়ারম্যান শওকত আলী চৌধুরীর বিরুদ্ধে বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ

ইবিএল চেয়ারম্যান শওকত আলী চৌধুরীর বিরুদ্ধে বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ

ব্যাংক ইনফো

প্রকাশিত: ২০:৫৬, ৫ জুন ২০২৬

ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেডের (ইবিএল) চেয়ারম্যান ও জাহাজ ভাঙা শিল্পের উদ্যোক্তা মো. শওকত আলী চৌধুরীর বিরুদ্ধে বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, ইউনাইটেড ব্যাংক অব সুইজারল্যান্ড (ইউবিএস)-এর মাধ্যমে যুক্তরাজ্য থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইভিত্তিক দুটি ব্যাংক—ম্যাশরেক ব্যাংক ও এমিরেটস এনবিডি ব্যাংকে প্রায় ২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার স্থানান্তর করা হয়েছে।

একাধিক গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে তথ্য বাংলাদেশের জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি)-কে অবহিত করে একটি চিঠি পাঠিয়েছে। তবে চিঠির বিষয়বস্তু কিংবা তদন্তের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে এনবিআরের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।

ধামাচাপার চেষ্টার অভিযোগ
এ ঘটনায় এনবিআরের ভেতরে একটি প্রভাবশালী চক্র অভিযোগটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, বিষয়টি নিষ্পত্তি বা তদন্তের গতি প্রভাবিত করার লক্ষ্যে বড় অঙ্কের আর্থিক লেনদেনেরও চেষ্টা চলছে।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে এনবিআরের কোনো দায়িত্বশীল কর্মকর্তা আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেননি। ফলে অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর অভিযোগ
চট্টগ্রামভিত্তিক কয়েকজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধেও বিষয়টি আপস-মীমাংসার মাধ্যমে নিষ্পত্তির লক্ষ্যে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে। যদিও অভিযোগে যাদের নাম এসেছে বা সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিরা এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আর্থিক অপরাধসংক্রান্ত অভিযোগে যদি কোনো ধরনের রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা হয়ে থাকে, তাহলে তা তদন্তের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করতে পারে।

জাহাজ আমদানিকে ঘিরেও প্রশ্ন
এদিকে সম্প্রতি শওকত আলী চৌধুরীর মালিকানাধীন এস এন কর্পোরেশনের আমদানিকৃত একটি জাহাজের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা আরোপের তথ্য বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। জাহাজটি বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙর এলাকায় অবস্থান করছে বলে বন্দর-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

তবে কোন কারণে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা প্রকাশ করা হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কিংবা বাংলাদেশের নৌপরিবহন ও বন্দর কর্তৃপক্ষও এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেনি।

তদন্ত হলে কী হতে পারে
অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইন এবং বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইনের আওতায় অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি তদন্ত, সম্পদের উৎস অনুসন্ধান, ব্যাংক হিসাব জব্দ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে অর্থ পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে বলে আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।

বাংলাদেশ বর্তমানে অর্থ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক সংস্থা ফিন্যান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্স এর মানদণ্ড বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। ফলে বিদেশে অর্থ স্থানান্তর বা সম্পদ গোপনের অভিযোগগুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি
প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত মো. শওকত আলী চৌধুরী, ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেড (ইবিএল), এস এন কর্পোরেশন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) কিংবা অভিযোগে সংশ্লিষ্ট অন্য কোনো সরকারি সংস্থার আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে। 

এই প্রতিবেদনটি সিআরডি নিউজ অবলম্বনে তৈরি করা হয়েছে। এই নিউজের পুরো ক্রেডিট সিআরডিনিউজের। 

city-bank
city-bank