ঢাকা || ০৩ এপ্রিল ২০২৬

বিশ্বে গ্রিনফিল্ড সম্প্রসারণে আদানির নতুন রেকর্ড বছরে ৫ গিগাওয়াট নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ সংযোজন

বিশ্বে গ্রিনফিল্ড সম্প্রসারণে আদানির নতুন রেকর্ড বছরে ৫ গিগাওয়াট নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ সংযোজন

ব্যাংক ইনফো

প্রকাশিত: ১৮:২৪, ৩ এপ্রিল ২০২৬

চীনের বাইরে বিশ্বে এক অর্থবছরে সর্বোচ্চ গ্রিনফিল্ড সক্ষমতা সংযোজনের রেকর্ড গড়েছে ভারতের শীর্ষ নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রতিষ্ঠান আদানি গ্রিন এনার্জি লিমিটেড (এজিইএল)। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটি মোট ৫ হাজার ৫১ মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা যুক্ত করেছে। এতে প্রতিষ্ঠানটির মোট উৎপাদন সক্ষমতা ১৯ দশমিক ৩ গিগাওয়াটে পৌঁছেছে এবং ভারতের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে প্রতিষ্ঠানটির শীর্ষস্থানীয় অবস্থান আরও সুদৃঢ় করেছে।

নতুন সংযোজিত সক্ষমতার মধ্যে রয়েছে ৩ হাজার ৪০৯ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ, ৬৮৬ মেগাওয়াট বায়ুবিদ্যুৎ এবং ৯৫৬ মেগাওয়াট বায়ু-সৌর হাইব্রিড বিদ্যুৎ। এই সংযোজন প্রতি বছর প্রায় এক কোটি টন কার্বন নিঃসরণ হ্রাসে ভূমিকা রাখবে। সামগ্রিকভাবে এজিইএলের পূর্ণ পোর্টফোলিও বার্ষিক ৩ কোটি ৬০ লাখ টন কার্বন অফসেটে সক্ষম হবে।

নতুন সক্ষমতার বড় অংশ স্থাপিত হয়েছে গুজরাটের খাভদায়, যেখানে বিশ্বের বৃহত্তম নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প নির্মাণ করছে আদানি গ্রিন এনার্জি। প্যারিস শহরের পাঁচগুণ আয়তনের সমান ৫৩৮ বর্গকিলোমিটার বিস্তৃত ভূমিতে গড়ে ওঠা এই প্রকল্পটি ২০২৯ সালের মধ্যে ৩০ গিগাওয়াট উৎপাদন সক্ষমতায় পৌঁছানোর লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে এগিয়ে চলছে। এখন পর্যন্ত সেখানে ৯ হাজার ৪১৩ মেগাওয়াট সক্ষমতা স্থাপন সম্পন্ন হয়েছে।

খাভদা প্রকল্পে উন্নত প্রযুক্তির বাইফেসিয়াল সোলার মডিউল ব্যবহার করা হয়েছে, যা সরাসরি সূর্যালোক ও ভূমি থেকে প্রতিফলিত আলো — উভয় উৎস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম। সোলার ট্র্যাকারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন সর্বোচ্চ পর্যায়ে রাখা হচ্ছে। বায়ুবিদ্যুৎ অংশে ব্যবহৃত হচ্ছে ৫ দশমিক ২ মেগাওয়াট ক্ষমতার টার্বাইন, যা বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী স্থলভিত্তিক বায়ু টার্বাইনগুলোর মধ্যে অন্যতম। পানিবিহীন রোবোটিক পরিষ্কার পদ্ধতি ব্যবহারের ফলে সোলার প্যানেল রক্ষণাবেক্ষণে প্রায় শূন্য পরিমাণ পানি ব্যয় হচ্ছে।  এর পাশাপাশি খাভদায় ১ হাজার ৩৭৬ মেগাওয়াট-আওয়ার ক্ষমতার ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেম চালু করা হয়েছে, যা বিশ্বের একক স্থানে অন্যতম বৃহত্তম এ ধরনের স্থাপনা। নির্মাণকাজ শুরুর মাত্র আট মাসের মধ্যে এটি চালু হয়েছে, যা জাতীয় গ্রিডে নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সংযোজন এবং গ্রিডের স্থিতিশীলতা নিশ্চিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

এজিইএলের নির্বাহী পরিচালক সাগর আদানি এই অর্জনকে ভারতের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের জন্য একটি "যুগান্তকারী মুহূর্ত" হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, এই মাইলফলক ভারতকে বৈশ্বিক সবুজ জ্বালানি রূপান্তরের মানচিত্রে দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। আমাদের নিষ্ঠা ও পরিশ্রম বারবার প্রমাণ করেছে যে অতি বৃহৎ পরিসরে নবায়নযোগ্য জ্বালানি স্থাপন কেবল সম্ভবই নয়, বাস্তবায়নযোগ্যও। তিনি ২০৩০ সালের মধ্যে ৫০ গিগাওয়াট সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্যমাত্রার কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন।

টেকসই উন্নয়নের স্বীকৃতিতেও প্রতিষ্ঠানটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। এনার্জি ইন্টেলিজেন্সের ২০২৫ সালের গ্লোবাল টপ ১০০ গ্রিন ইউটিলিটিজ তালিকায় আদানি গ্রিন এনার্জি প্রথম স্থান অধিকার করেছে। পাশাপাশি এনএসই সাসটেইনেবিলিটি রেটিংসের মূল্যায়নে টানা দ্বিতীয় বছরের মতো বিদ্যুৎ খাতে ভারতের শীর্ষ টেকসই উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা ধরে রেখেছে। প্রতিষ্ঠানটির পোর্টফোলিও ওয়াটার পজিটিভ, একক-ব্যবহার প্লাস্টিকমুক্ত এবং জিরো ওয়েস্ট-টু-ল্যান্ডফিল সার্টিফিকটেপ্রাপ্ত।

বর্তমানে ভারতের ১২টি রাজ্যে কার্যক্রম পরিচালনাকারী আদানি গ্রিন এনার্জি সৌর, বায়ু, হাইব্রিড ও এনার্জি স্টোরেজ সমাধানে বিনিয়োগ অব্যাহত রেখেছে। খাভদা প্রকল্পের দ্রুত অগ্রগতি এবং বর্তমান ১৯ দশমিক ৩ গিগাওয়াটের বিপুল পরিমান উৎপাদন সক্ষমতা নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি ভারতের কার্বনমুক্তির জাতীয় লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে সংগতি রেখে কাজ করছে। আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে ৫০ গিগাওয়াটের লক্ষ্য পূরণে এগিয়ে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। 
 

city-bank
city-bank