ঢাকা || ০৩ এপ্রিল ২০২৬

পয়লা বৈশাখকে সামনে রেখে ইলিশ ও সোনালি মুরগির দাম বেড়েছে

পয়লা বৈশাখকে সামনে রেখে ইলিশ ও সোনালি মুরগির দাম বেড়েছে

ব্যাংক ইনফো

প্রকাশিত: ২৩:৪৬, ৩ এপ্রিল ২০২৬

পয়লা বৈশাখকে সামনে রেখে রাজধানীর কাঁচাবাজারে ইলিশ ও সোনালি মুরগির দাম বেড়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরবরাহ ঘাটতি এবং বাড়তি চাহিদার কারণে এই মূল্যবৃদ্ধি ঘটেছে।

বর্তমানে ৫০০ গ্রামের কম ওজনের ইলিশ, যা আগে ৮০০ থেকে ১,০০০ টাকায় বিক্রি হতো, এখন বিক্রি হচ্ছে ১,৪০০ থেকে ১,৫০০ টাকায়। ৭০০-৮০০ গ্রামের ইলিশের দাম ২,২০০ থেকে ২,৩০০ টাকা এবং এক কেজি বা তার বেশি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২,৬০০ থেকে ২,৮০০ টাকা কেজিতে।

ব্যবসায়ীরা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে ইলিশের সরবরাহ কমে গেছে। তবে এপ্রিলের শেষ দিকে সরবরাহ কিছুটা বাড়তে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় দাম আরও বেড়েছে।

শুক্রবার শান্তিনগর, মতিঝিল, মালিবাগ, রামপুরা, বাড্ডা ও কুড়িল এলাকার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, ব্রয়লার মুরগির দাম কমে কেজিতে ২০০ টাকায় নেমেছে, যা আগে ছিল ২৪০ টাকা। তবে সোনালি মুরগির দাম বেড়ে কেজিতে ৩৮০-৪০০ টাকায় দাঁড়িয়েছে, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৩৫০ টাকা।

রমজানের শুরুতে সোনালি মুরগির দাম ছিল ২৮০-৩০০ টাকা, যা রমজানের শেষ সপ্তাহে বেড়ে ৩৪০-৩৬০ টাকায় পৌঁছায়। ঈদের পর দাম কমবে বলে আশা করেছিলেন ক্রেতারা, কিন্তু বাস্তবে দাম আরও বেড়েছে।

মতিঝিলের এজিবি কলোনি কিচেন মার্কেটের ক্রেতা টিপু সরকার বলেন, “ভাবছিলাম ঈদের পর দাম কমবে, কিন্তু এখন কেজি ৪০০ টাকায় পৌঁছে গেছে।”

ব্যবসায়ীরা জানান, সরবরাহ সংকটই মূল কারণ। উত্তর বাড্ডার এক বিক্রেতা সেলিম আলী বলেন, “আগে গাজীপুর থেকে একদিনে দুই পিকআপ মুরগি আনতে পারতাম। এখন অর্ডার দেওয়ার পরও দুই দিন অপেক্ষা করতে হচ্ছে। পরিবহন খরচও বেড়েছে এবং আগাম টাকা দিতে হচ্ছে।”

দাম বাড়ার কারণে বিক্রিও কমে গেছে বলে জানান বিক্রেতারা। রামপুরার এক ব্যবসায়ী বলেন, আগে যেখানে একজন ক্রেতা চারটি মুরগি কিনতেন, এখন সেখানে দুটি বা একটি কিনছেন।

এদিকে দেশি মুরগির দামও বেড়ে কেজিতে ৭৮০-৮০০ টাকায় পৌঁছেছে, যা রমজানের আগে ছিল ৫৫০-৬০০ টাকা।

তবে গরুর মাংসের দাম মোটামুটি স্থিতিশীল রয়েছে। অধিকাংশ দোকানে কেজি ৮০০ টাকায় বিক্রি হলেও কিছু এলাকায় ৮২০-৮৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

গত এক সপ্তাহে ডিমের দামও ডজনপ্রতি ১০ টাকা বেড়ে ১২০-১৩০ টাকায় দাঁড়িয়েছে, যা আগে ছিল ১০০-১১০ টাকা।

অন্যদিকে, সবজির বাজার তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে। আলু ও পেঁয়াজের দামে উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। তবে ব্যবসায়ীরা সতর্ক করেছেন, সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে আগামী সপ্তাহগুলোতে আরও দাম বাড়তে পারে।

city-bank
city-bank