সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা (ইউপিএস) শক্তিশালী করতে ৩ হাজার ৯৬৫ কোটি টাকার একটি প্রকল্প হাতে নিচ্ছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ। এর মধ্যে প্রায় ৭৬.৯২ শতাংশ অর্থায়ন আসবে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) থেকে ঋণ হিসেবে।
“স্ট্রেংথেনিং ইউনিভার্সাল পেনশন সিস্টেম (এসইউপিএস)” শীর্ষক প্রকল্পটি ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে পরিকল্পনা কমিশনে প্রাথমিক উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (পিডিপিপি) জমা দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং অবকাঠামো উন্নয়নই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। এর আওতায় ঢাকার তেজগাঁও শিল্প এলাকায় ৩৬.৩২ ডেসিমেল জমির ওপর অফিস ভবন নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি মানবসম্পদ উন্নয়ন, আর্থিক বিশ্লেষণ ব্যবস্থা এবং কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় কাঠামো গড়ে তোলা হবে।
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সূত্রে জানা গেছে, এডিবি প্রাথমিকভাবে ১০০ মিলিয়ন ডলার অর্থায়নে সম্মতি দিয়েছে। প্রকল্পটি এডিপিতে অন্তর্ভুক্ত হলে মোট ২৫০ মিলিয়ন ডলার অর্থায়নের জন্য আলোচনা শুরু হবে।
২০২৩ সালের আগস্টে সমতা, প্রগতি, প্রবাস ও সুরক্ষা—এই চারটি স্কিম নিয়ে চালু হওয়া ইউপিএসে এখন পর্যন্ত প্রায় ৩.৮ লাখ গ্রাহক যুক্ত হয়েছেন। এসব স্কিমে মোট আমানতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৪২ কোটি টাকা।
তবে প্রথম ১০ মাসে প্রায় ৩ লাখ নিবন্ধনের পর সাম্প্রতিক সময়ে নতুন নিবন্ধন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে, যা জনসাধারণের আগ্রহ ও আস্থার ঘাটতির ইঙ্গিত দেয়।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, অংশগ্রহণ কম থাকা সত্ত্বেও এত বড় বিনিয়োগের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তাদের মতে, পেনশন তহবিল লাভজনকভাবে পরিচালিত না হলে এটি সরকারের জন্য আর্থিক বোঝা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
তবে প্রকল্প প্রস্তাবে বলা হয়েছে, দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনা উন্নত করতে পেনশন ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা জরুরি।
জানা গেছে, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে পরিকল্পনা কমিশন নীতিগত অনুমোদন দেওয়ার পর এটি ইআরডিতে পাঠানো হয়। প্রাথমিকভাবে প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছিল ৩২৫ মিলিয়ন ডলার, যার মধ্যে ২৫০ মিলিয়ন ডলার এডিবি এবং ৭৫ মিলিয়ন ডলার সরকারের।
তবে বর্তমানে প্রাপ্ত ১০০ মিলিয়ন ডলারের ভিত্তিতে প্রকল্প ব্যয় কমিয়ে প্রায় ১ হাজার ৪৬৪ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হতে পারে, যেখানে সরকারের অংশ হবে ২০ মিলিয়ন ডলার।
প্রকল্প চূড়ান্ত করতে সম্ভাব্যতা যাচাই (ফিজিবিলিটি স্টাডি) করা হবে এবং এডিবির কারিগরি সহায়তা নেওয়া হবে।
অর্থ বিভাগ সম্প্রতি পরিকল্পনা কমিশনকে প্রকল্পটি ২০২৬–২৭ অর্থবছরের এডিপির অননুমোদিত তালিকায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অন্তর্ভুক্ত করার অনুরোধ জানিয়েছে।
এদিকে, প্রকল্পের দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন সাবেক বিশ্বব্যাংক ঢাকা কার্যালয়ের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন। তিনি বলেন, বর্তমান আর্থিক শৃঙ্খলা ও মিতব্যয়িতার প্রেক্ষাপটে এটি অগ্রাধিকার প্রকল্প নাও হতে পারে।
তার মতে, পেনশন ব্যবস্থায় মানুষের কম অংশগ্রহণ অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে নয়, বরং বিনিয়োগের রিটার্ন নিয়ে আস্থার অভাবের প্রতিফলন।
তিনি আরও বলেন, “বড় অবকাঠামো বিনিয়োগের আগে জনগণের আস্থা পুনর্গঠন এবং ভালো রিটার্ন নিশ্চিত করা জরুরি।”











