ঢাকা || ০৩ এপ্রিল ২০২৬

জ্বালানি সংকটে উপকূলে মাছ ধরা ব্যাহত, বাড়ছে দাম

জ্বালানি সংকটে উপকূলে মাছ ধরা ব্যাহত, বাড়ছে দাম

জ্বালানি সংকটে মাছধরা ট্রলারগুলো বসে আছে পটুয়াখালীর কলাপাড়ায়

ব্যাংক ইনফো

প্রকাশিত: ০০:০৬, ৪ এপ্রিল ২০২৬

জ্বালানি সরবরাহে সংকটের কারণে দেশের উপকূলীয় এলাকায় সামুদ্রিক মাছ ধরা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এতে শত শত নৌকা ঘাটে অলস পড়ে আছে এবং স্থানীয় বাজারে মাছের দাম বেড়ে গেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

চট্টগ্রাম ও আশপাশের উপকূলীয় এলাকার জেলে ও ব্যবসায়ীরা জানান, ইঞ্জিনচালিত নৌকা ও ছোট ট্রলারগুলোর জন্য ডিজেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। পেট্রোল পাম্পগুলো ড্রাম ও বোতলে জ্বালানি বিক্রিতে সরকারি বিধিনিষেধের কথা বলছে। ফলে দেশে ডিজেলের কোনো বড় ধরনের সংকট না থাকলেও সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে অনেক নৌকা সাগরে যেতে পারছে না।

মধ্যপ্রাচ্যে মার্চের শুরুতে যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবেও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে, যার ফলে হাজারো নৌকা ও ট্রলার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

পতেঙ্গার জেলে সিদ্ধার্থ জলদাস বলেন, “আগে আমরা ড্রাম বা বোতলে করে নৌকায় জ্বালানি নিয়ে যেতাম। এখন পেট্রোল পাম্প থেকে কোনো জ্বালানি পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে কোনো জেলেই সাগরে যেতে পারছেন না।”

কর্ণফুলী নদীর তীর এবং ফিশারি ঘাট, পতেঙ্গা, সীতাকুণ্ড ও সন্দ্বীপসহ বিভিন্ন এলাকায় শত শত ছোট ট্রলার ও নৌকা নোঙর করে রাখা দেখা গেছে। জেলেরা জাল মেরামত করে বা অলস সময় কাটাচ্ছেন।

সীতাকুণ্ড উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোতাসিম বিল্লাহ জানান, “সীতাকুণ্ড উপকূলে ১,৫০০টির বেশি নৌকা রয়েছে। কিন্তু ডিজেল না পাওয়ায় তারা সাগরে যেতে পারছে না।”

মাছ ধরা কমে যাওয়ায় বাজারে সরবরাহেও প্রভাব পড়েছে এবং দাম বাড়তে শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

রপ্তানিকারকরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে বৈদেশিক আয় ও কর্মসংস্থানে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তারা দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত জেলেদের জন্য প্রণোদনা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

অন্যদিকে, বড় গভীর সমুদ্রগামী জাহাজগুলো প্রয়োজন অনুযায়ী জ্বালানি পেলেও তারাও সমস্যার মুখে পড়ছে। এক জাহাজ মালিক জানান, “আমরা জ্বালানি পাচ্ছি, কিন্তু সাগরে গিয়ে মাছ পাচ্ছি না। জেলিফিশে সাগর ভরে গেছে, জাল ফেললেই জেলিফিশ উঠে আসছে, যার কোনো বাজারমূল্য নেই।”

এছাড়া বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় বঙ্গোপসাগরের পানির লবণাক্ততা বেড়েছে, যা মাছের চলাচল ও প্রজননে প্রভাব ফেলছে। ফলে অনেক বড় জাহাজও সাম্প্রতিক সময়ে কম মাছ নিয়ে বন্দরে ফিরছে।

বাংলাদেশের সামুদ্রিক জলসীমা প্রায় ১ লাখ ৬৬ হাজার বর্গকিলোমিটার, যা টেকনাফ থেকে সাতক্ষীরা পর্যন্ত ৭১০ কিলোমিটার বিস্তৃত এবং সমুদ্রের ২০০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত প্রসারিত। এ এলাকায় চারটি প্রধান মাছ ধরার অঞ্চল রয়েছে।

এদিকে, আগামী ১৫ এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাওয়া সরকারের ৫৮ দিনের মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে এই সংকট আরও গভীর হয়ে দেশের রপ্তানি, জীবিকা এবং খাদ্য নিরাপত্তায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

city-bank
city-bank