ঢাকা || ০৩ এপ্রিল ২০২৬

সুতা–তুলার দাম বৃদ্ধি ও জ্বালানি সংকটে চাপে পোশাক খাত

সুতা–তুলার দাম বৃদ্ধি ও জ্বালানি সংকটে চাপে পোশাক খাত

ব্যাংক ইনফো

প্রকাশিত: ০০:১৬, ৪ এপ্রিল ২০২৬

সুতা ও তুলার দাম বৃদ্ধি, পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়া এবং সরবরাহ বিলম্বের কারণে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পে চাপ বাড়ছে। উদ্যোক্তারা বলছেন, এতে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে লাভের মার্জিন কমে যাচ্ছে।

খাতসংশ্লিষ্টরা জানান, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতায় বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় পোশাক উৎপাদনের প্রধান কাঁচামালের দাম বেড়েছে। একই সঙ্গে লোডশেডিংয়ের সময় বিকল্প বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় ডিজেলের ঘাটতিও উৎপাদনে বাধা সৃষ্টি করছে।

ডেনিম উৎপাদকরা জানান, ওপেন-এন্ড সুতা প্রতি পাউন্ড ১.৮০ ডলার থেকে বেড়ে ২.৫০ ডলারে পৌঁছেছে। একটি ডেনিম প্যান্ট তৈরির মোট খরচের প্রায় ৬০ শতাংশই সুতা হওয়ায় এই মূল্যবৃদ্ধি বড় চাপ সৃষ্টি করছে।

তুলার দামও বেড়েছে। বিটার কটন ইনিশিয়েটিভ (বিসিআই) তুলা প্রতি পাউন্ড ৭৯ সেন্ট থেকে বেড়ে ৯৪ সেন্ট, পশ্চিম আফ্রিকান তুলা ৭০ সেন্ট থেকে ৭৮ সেন্ট এবং ব্রাজিলিয়ান তুলা ৭৪.৫ সেন্ট থেকে ৮৩ সেন্টে উঠেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের তুলার দাম তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে।

টেক্সটাইল উদ্যোক্তা ইঞ্জিনিয়ার কুতুবউদ্দিন আহমেদ বলেন, “অর্ডার একবার নিশ্চিত হলে দাম সমন্বয়ের সুযোগ থাকে না। ফলে কাঁচামালের দাম বাড়লে তা সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।”

এদিকে পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়া এবং শিপমেন্ট বিলম্বও সমস্যা বাড়াচ্ছে। বৈশ্বিক জ্বালানি দামের অস্থিরতার কারণে সিনথেটিক ফাইবার ও অন্যান্য কাঁচামালের দামও বেড়েছে। পলিয়েস্টার স্ট্যাপল ফাইবারের (PSF) দাম কেজিতে ৯০ সেন্ট থেকে বেড়ে ১.২২ ডলারে পৌঁছেছে।

জাবের অ্যান্ড জুবায়ের ফ্যাব্রিকসের মার্কেটিং পরিচালক শফিকুর রহমান বলেন, “সিনথেটিক ফাইবারের দাম প্রায় ৩২ শতাংশ বেড়েছে, এতে কাপড়ের খরচ ১০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।”

বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল বলেন, “জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে, যা শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদের ওপরই পড়বে।”

বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম জানান, সুতা প্রতি কেজিতে ৩৫-৪০ সেন্ট বেড়েছে। নিটওয়্যার খাতে উৎপাদন ব্যয় ইতোমধ্যে ১০-১২ শতাংশ বেড়েছে, অথচ লাভের মার্জিন মাত্র ২-৫ শতাংশ।

তিনি বলেন, “অনেক রপ্তানিকারক এখন লোকসান দিয়ে ব্যবসা চালাচ্ছেন, ভবিষ্যতে পরিস্থিতি উন্নতির আশায়।”

এদিকে, বৈশ্বিক জাহাজ পরিবহন ব্যয়ও বেড়েছে। চীন-বাংলাদেশ রুটে কনটেইনার প্রতি ভাড়া ৫০০ ডলারের বেশি বেড়েছে বলে জানিয়েছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে কোভিড সময়ের মতো ভাড়া ৪ হাজার থেকে ১৮ হাজার ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ডিবিএল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ জব্বার বলেন, “কাঁচামালের দাম বাড়ছে, আবার ডিজেল সংকট উৎপাদন ব্যাহত করছে। ভবিষ্যৎ নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন।”

খাতসংশ্লিষ্টরা দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করা এবং নীতিগত সহায়তা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে শিল্প খাত এই সংকট কাটিয়ে উঠতে পারে।

city-bank
city-bank