বাংলাদেশের রিদম গ্রুপ এবং ভারতের মানিপল হসপিটালসের মধ্যে আজ একটি যুগান্তকারী চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, যার মাধ্যমে দুই দেশের চিকিৎসা পর্যটন খাত আরও সুসংগঠিত হবে এবং বাংলাদেশের রোগীরা ভারতে উন্নত স্বাস্থ্যসেবায় নির্বিঘ্ন প্রবেশাধিকার পাবেন।
রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা।
রিদম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সোহাগ হোসেন এবং মণিপাল হেলথ এন্টারপ্রাইজেসের গ্রুপ কনসালট্যান্ট জিথু জোসে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। এ সময় রিদম গ্রুপের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবির হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্যে প্রণয় ভার্মা বলেন, এ চুক্তি বাংলাদেশ ও ভারতের জনগণকেন্দ্রিক অংশীদারিত্বকে আরও গভীর করবে এবং স্বাস্থ্যসেবা ও যোগাযোগ খাতে দুই প্রতিবেশী দেশের সহযোগিতা আরও জোরদার করবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য মানসম্মত ও সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবায় প্রবেশাধিকার সহজ করতে ভারত প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং দুই দেশের বেসরকারি খাতের মধ্যে আরও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতাকে স্বাগত জানায়।
মণিপাল হেলথ এন্টারপ্রাইজেসের গ্রুপ সিওও কার্তিক রাজাগোপাল বলেন, “মণিপালে আমরা বিশ্বাস করি, মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা প্রদান একটি যৌথ দায়িত্ব, যা সীমান্তের গণ্ডি অতিক্রম করে। রিদম গ্রুপের শক্তিশালী উপস্থিতি ও দক্ষতার মাধ্যমে আমরা আশাবাদী যে বাংলাদেশের রোগীরা আমাদের রোগীকেন্দ্রিক ও বিশ্বমানের স্বাস্থ্যসেবায় নির্বিঘ্ন প্রবেশাধিকার পাবেন।”
রিদম গ্রুপের পক্ষে আবির হোসেন বলেন, এ অংশীদারিত্ব বাংলাদেশের রোগীদের জন্য বড় স্বস্তি বয়ে আনবে, কারণ এর মাধ্যমে নির্ভরযোগ্য দিকনির্দেশনা, সহজতর ভ্রমণ ব্যবস্থাপনা এবং ভারতের উন্নত চিকিৎসা সুবিধায় সহজ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত হবে।
তিনি বলেন, এ চুক্তি বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান মেডিকেল ট্যুরিজম খাতকে আরও সংগঠিত করবে এবং বিদেশে বিশেষায়িত চিকিৎসা নিতে যাওয়া রোগীদের মধ্যে আস্থা, স্বাচ্ছন্দ্য ও মানসিক প্রশান্তি বৃদ্ধি করবে।
এই অংশীদারিত্বের আওতায় বাংলাদেশের রোগীরা ভারতে চিকিৎসা গ্রহণের ক্ষেত্রে মেডিকেল পরামর্শ, হাসপাতাল নির্বাচন, ভিসা প্রক্রিয়াকরণ এবং ভ্রমণ ব্যবস্থাপনাসহ পূর্ণাঙ্গ সহায়তা পাবেন।
রিদম গ্রুপের ভ্রমণ, এভিয়েশন ও লজিস্টিকস খাতে অভিজ্ঞতার সঙ্গে Manipal Hospitals’র বিস্তৃত চিকিৎসা নেটওয়ার্কের সমন্বয়ে এ উদ্যোগ পরিচালিত হবে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির ৪৯টি হাসপাতাল, ১২ হাজার ৬০০-এর বেশি শয্যা এবং ১১ হাজারের বেশি চিকিৎসক রয়েছেন।
এছাড়া দ্বিতীয় মেডিকেল মতামত গ্রহণ, চিকিৎসা নথি পর্যালোচনা এবং রোগীভিত্তিক পরামর্শসেবাও প্রদান করা হবে, যাতে রোগীরা উপযুক্ত চিকিৎসা পদ্ধতি বেছে নিতে পারেন।
রোগীরা ভিসা সহায়তা, আবাসন ব্যবস্থা এবং এয়ারলাইন অংশীদারিত্বের মাধ্যমে বিশেষ বিমান ভাড়াসহ সমন্বিত ভ্রমণ সুবিধাও পাবেন।
উভয় পক্ষ একটি ডিজিটাল ভিডিও কনসালটেশন প্ল্যাটফর্ম চালুর পরিকল্পনাও ঘোষণা করেছে, যার মাধ্যমে বাংলাদেশি রোগীরা ভারতে যাওয়ার আগেই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সঙ্গে দূরবর্তীভাবে পরামর্শ করতে পারবেন।
দীর্ঘমেয়াদে, বাংলাদেশে স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবার সক্ষমতা বাড়াতে যৌথ উদ্যোগে একটি বহুমুখী হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়েও কাজ করবে দুই প্রতিষ্ঠান।