ক্যালেন্ডার ছাপানোর নামে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে বেসরকারিখাতের স্ট্যান্ডার্ড ইসলামী ব্যাংকের সাবেক প্রধান জনসংযোগ কর্মকর্তা (পিআরও) মেজবা উদ্দিন আহমেদ চাকরি হারিয়েছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক বিশদ পরিদর্শনে ক্যালেন্ডার না ছাপিয়েই এক কোটি টাকার বেশি আত্মসাতের তথ্য উঠে এসেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিদর্শন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালে ব্যাংকের জন্য ১ লাখ ৪৮ হাজার ৫০০ পিস ক্যালেন্ডার সরবরাহের নামে অর্থ পরিশোধ করা হলেও বাস্তবে ক্যালেন্ডার গ্রহণ করা হয়নি। প্রতি পিস ৭০ টাকা ৮০ পয়সা দরে মোট ১ কোটি ৫ লাখ ১৪ হাজার টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে ব্যাংকের।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, এ অনিয়মের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণসহ প্রযোজ্য অর্থ আদায় করে ব্যাংকের তহবিলে জমা দিতে হবে। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এমন নির্দেশনার পর মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ ১৫ কিন্তিতে ৯০ লাখ টাকা ফেরত দিয়েছে। এসব টাকা ফেরত দেওয়ার পর তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এ অনিয়মের ক্ষেত্রে তৎকালীন পিআরও মেজবা উদ্দিন আহমেদের সহযোগী হিসেবে ভূমিকা রাখেন ব্যাংকের পরিচালক কাজী খুররম আহমেদ। তিনি সাবেক চেয়ারম্যান কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদের ছেলে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, ক্যালেন্ডার সরবরাহ না করেই অর্থ পরিশোধের মাধ্যমে ব্যাংকের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে, যা জালিয়াতি ও গুরুতর অনিয়ম হিসেবে বিবেচিত। এ ঘটনায় জড়িত সকলের বিরুদ্ধে যথাযথ প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর ব্যাংকটির অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা ও আর্থিক শৃঙ্খলা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আবারও ঘটার ঝুঁকি থাকবে।
এবিষয়ে যোগাযোগ করা হলে মেজবা উদ্দিন আহমেদ তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেন। ব্যাংক তাকে কেন চাকরিচ্যুত করেছে সে বিষয়ে জানতে চাইলে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।













