ঢাকা || ১৩ মার্চ ২০২৬

লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশের মুনাফা বেড়েছে ৩৪শতাংশ, বিক্রি ২৯০০ কোটি টাকার বেশি

লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশের মুনাফা বেড়েছে ৩৪শতাংশ, বিক্রি ২৯০০ কোটি টাকার বেশি

ব্যাংক ইনফো

প্রকাশিত: ২১:০৯, ১৩ মার্চ ২০২৬

দেশের শীর্ষ সিমেন্ট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ ২০২৫ সালের আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে দেখা যায়, গত বছরে কোম্পানিটির মোট বিক্রি ৬ শতাংশ বেড়ে ২৯০৩ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে কর-পরবর্তী মুনাফা ৩৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে কর-পরবর্তী মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৫১০ কোটি টাকা, যা ২০২৪ সালে ছিল ৩০৮ কোটি টাকা। একই সময়ে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ৩৪ শতাংশ বেড়ে ৪ দশমিক ৪০ টাকায় উন্নীত হয়েছে, যা আগের বছর ছিল ৩ দশমিক ২৯ টাকা।

প্রতিষ্ঠানটি জানায়, সরকারি খাতে ব্যয় হ্রাসের কারণে নির্মাণ শিল্পে সামগ্রিক মন্দা থাকা সত্ত্বেও প্রিমিয়াম পণ্য এবং অ্যাগ্রিগেটস ব্যবসায় প্রবৃদ্ধি অর্জনের ফলে এই সাফল্য এসেছে।

এ প্রসঙ্গে কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইকবাল চৌধুরী বলেন, সরকারি বিনিয়োগে ধীরগতি এবং বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ায় ২০২৫ সালে নির্মাণ শিল্প চ্যালেঞ্জের মুখে ছিল। তবুও কোম্পানিটি সিমেন্ট ও অ্যাগ্রিগেটস উভয় খাতে বিক্রি বাড়াতে সক্ষম হয়েছে, যা পণ্য ও সেবার প্রতি গ্রাহকের আস্থার প্রতিফলন।

তিনি বলেন, উদ্ভাবনী পণ্য যেমন ‘হোলসিম ওয়াটার প্রোটেক্ট’ ও ‘সুপারক্রিট প্লাস’ বাজারে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে এবং কোম্পানির বাজার নেতৃত্ব ধরে রাখতে সহায়ক হয়েছে। পাশাপাশি টেকসই উন্নয়ন উদ্যোগের অংশ হিসেবে ‘জিওসাইকেল’ পদ্ধতির মাধ্যমে ২০২৫ সালে ৪৫ হাজার টনের বেশি পুনঃব্যবহার অযোগ্য বর্জ্য কো-প্রসেস করা হয়েছে, যার ফলে প্রায় ১১ শতাংশ জীবাশ্ম জ্বালানি সাশ্রয় সম্ভব হয়েছে।

কোম্পানি জানিয়েছে, জ্বালানির বাড়তি খরচ এবং বাজারের অস্থিরতার কারণে মুনাফার ওপর চাপ তৈরি হলেও ব্যয় সংকোচন ও কৌশলগত মূল্য নির্ধারণের মাধ্যমে তা মোকাবিলা করা হয়েছে।

এদিকে ২০২৬ সালের শুরুতেই কোম্পানি উপকূলীয় অঞ্চলের জন্য ‘হোলসিম কোস্টাল গার্ড’ এবং রেডিমিক্স খাতের জন্য ‘পাওয়ারক্রিট’ নামের নতুন পণ্য বাজারে এনেছে, যা বিশেষায়িত সমাধানের মাধ্যমে গ্রাহকদের চাহিদা পূরণে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

২০২৫ সালের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ মোট ৪০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে অন্তর্বর্তীকালীন ১৮ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ইতোমধ্যে দেওয়া হয়েছে।

চূড়ান্তভাবে ২০২৬ সালের ১১ মার্চ পরিচালনা পর্ষদ প্রতি শেয়ারের বিপরীতে ২ দশমিক ২ টাকা চূড়ান্ত নগদ লভ্যাংশ অনুমোদন করেছে। ফলে ২০২৫ সালের জন্য কোম্পানির মোট প্রায় ৪৬৫ কোটি টাকা নগদ লভ্যাংশ বিতরণ করা হবে।

আগামী সময়ে মুনাফা ও প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে কোম্পানি পরিচালন দক্ষতা বৃদ্ধি, বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারে বিনিয়োগ, পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানো এবং মূল্য নির্ধারণ কৌশল আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। পাশাপাশি টেকসই উন্নয়ন এবং ডিজিটাল রূপান্তরেও বিনিয়োগ অব্যাহত রাখার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।