ঢাকা || ১৩ মার্চ ২০২৬

আর্থিক প্রতিষ্ঠানের আমানত ঢাকাকেন্দ্রিক

আর্থিক প্রতিষ্ঠানের আমানত ঢাকাকেন্দ্রিক

ব্যাংক ইনফো

প্রকাশিত: ২০:৪৮, ১৩ মার্চ ২০২৬

দেশের নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মোট আমানত সামান্য বাড়লেও ঋণ বিতরণে ধীরগতি দেখা গেছে। একই সঙ্গে খাতটিতে আঞ্চলিক বৈষম্য ও লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্যের প্রবণতাও রয়ে গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মোট আমানত দাঁড়িয়েছে ৫১ হাজার ১২৭ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় মাত্র শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ বেশি। এর আগে ২০২৫ সালের জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে মোট আমানতের পরিমাণ ছিল ৫০ হাজার ৭২৩ কোটি টাকা।

অন্যদিকে মোট ঋণ ও অগ্রিম (সুদসহ) ২০২৫ সালের অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকে দাঁড়িয়েছে ৭৮ হাজার ৮২৮ কোটি টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় ১ দশমিক ৪১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৫ সালের জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে এই ঋণের পরিমাণ ছিল ৭৭ হাজার ৭৩৪ কোটি টাকা, আর ২০২৪ সালের অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকে ছিল ৭৬ হাজার ৭৭ কোটি টাকা।

তবে অর্থনৈতিক খাতে ঋণ বিতরণে পতন লক্ষ্য করা গেছে। বছরওয়ারি হিসাবে ২০২৪ সালের একই সময়ের তুলনায় অর্থনৈতিক উদ্দেশ্যে ঋণ বিতরণ কমেছে ৪ দশমিক ৫৮ শতাংশ। ২০২৫ সালের অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকে এ ধরনের ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৬১ কোটি টাকা। এর আগে ২০২৫ সালের জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে এই ঋণ বিতরণ ছিল ৪ হাজার ৮৫৭ কোটি টাকা এবং ২০২৪ সালের অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকে ছিল ৬ হাজার ৩৫১ কোটি টাকা।

তবে ধারাবাহিক প্রান্তিক তুলনায় কিছুটা ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। ২০২৫ সালের জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকের তুলনায় অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকে অর্থনৈতিক খাতে ঋণ বিতরণ বেড়েছে ২৪ দশমিক ৭৭ শতাংশ।

খাতটির পারফরম্যান্সে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পার্থক্যও স্পষ্ট। সরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণ ও অগ্রিম ৪ দশমিক ২২ শতাংশ বেড়ে ১৫ হাজার ৫৬৮ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। অন্যদিকে বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণ বৃদ্ধি তুলনামূলক ধীর, যা ০ দশমিক ৭৪ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৩ হাজার ২৬০ কোটি টাকায়।

আমানতের ক্ষেত্রে স্থায়ী আমানত (ফিক্সড ডিপোজিট) এখনো খাতটির মূল ভিত্তি। মোট আমানতের মধ্যে স্থায়ী আমানতের অংশ সামান্য কমে ৯৬ দশমিক ১০ শতাংশ থেকে ৯৬ দশমিক ০২ শতাংশে নেমে এলেও মোট পরিমাণ ০ দশমিক ৭২ শতাংশ বেড়ে ৪৯ হাজার ৯৫ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।

বেসরকারি খাত আমানত সংগ্রহে প্রধান ভূমিকা রাখছে। মোট আমানতের ৯১ দশমিক ৫৫ শতাংশই এসেছে বেসরকারি খাত থেকে, যার পরিমাণ ০ দশমিক ৭৯ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৬ হাজার ৮০৫ কোটি টাকা। অন্যদিকে সরকারি খাতে আমানত ০ দশমিক ৮৪ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ৩২২ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। সরকারি খাতে সরকারের আমানত ১ দশমিক ২৮ শতাংশ বেড়ে ৪৮৩ কোটি টাকায় পৌঁছেছে।

এদিকে আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতে ভৌগোলিক কেন্দ্রীকরণও স্পষ্ট। মোট আমানতের ৯২ দশমিক ৩৯ শতাংশই এসেছে ঢাকা বিভাগ থেকে। ঢাকায় আমানত ১ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৭ হাজার ২৩৬ কোটি টাকায়।

অন্যদিকে সবচেয়ে কম অংশগ্রহণ রয়েছে বরিশাল বিভাগের, যেখানে মোট আমানতের মাত্র শূন্য দশমিক ১৬ শতাংশ রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, দেশের প্রধান অর্থনৈতিক কেন্দ্র ঢাকাকেন্দ্রিক কার্যক্রমের কারণে আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতের বিস্তার এখনো অন্যান্য অঞ্চলে তেমনভাবে ঘটেনি।