নগদ ইসলামিকের উদ্যোগে আয়োজিত ‘সন্তানের কণ্ঠে কুরআন তিলাওয়াত’ প্রতিযোগিতার গ্র্যান্ড ফিনালে সেরা হয়েছে নগদ উদ্যোক্তাদের নয় সন্তান। দেশের ১০টি অঞ্চল থেকে অংশ নেওয়া প্রায় ৩ হাজার প্রতিযোগীর মধ্য থেকে ৩০ জন চূড়ান্ত পর্বে জায়গা করে নেয়। তাদের মধ্য থেকে তিনটি বয়সভিত্তিক বিভাগে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় হয়ে মোট নয়জন জাতীয় পর্যায়ের পুরস্কার পেয়েছে।
সম্প্রতি ঢাকার হোটেল শেরাটনে জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে প্রতিযোগিতার গ্র্যান্ড ফিনালে অনুষ্ঠিত হয়। গত ৫ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এ প্রতিযোগিতা ২৮ জুলাই চূড়ান্ত পর্বের মধ্য দিয়ে শেষ হয়।
নতুন প্রজন্মের মধ্যে ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধ ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে নগদ ইসলামিকের উদ্যোগে প্রতিযোগিতাটি আয়োজন করে নগদ লিমিটেড।
গ্র্যান্ড ফিনালে ৩০ জন প্রতিযোগী বিচারকমণ্ডলীর সামনে সরাসরি কুরআন তিলাওয়াত পরিবেশন করে। প্রতিযোগীদের শুদ্ধ মাখরাজ, তাজবীদ অনুসরণ, তিলাওয়াতের শুদ্ধতা, কণ্ঠস্বরের সৌন্দর্য এবং সামগ্রিক পরিবেশনা—এই পাঁচটি মানদণ্ডে মূল্যায়ন করা হয়।
তিনটি বিভাগে প্রথম স্থান অর্জনকারীরা প্রত্যেকে ৫০ হাজার ১ টাকা, দ্বিতীয় স্থান অর্জনকারীরা ৩০ হাজার ১ টাকা এবং তৃতীয় স্থান অর্জনকারীরা ২০ হাজার ১ টাকা করে পুরস্কার পেয়েছে। পুরস্কারের সঙ্গে তাদের ক্রেস্ট ও সনদপত্রও দেওয়া হয়। চূড়ান্ত পর্বে অংশ নেওয়া বাকি ২১ জনসহ মোট ৩০ ফাইনালিস্টের প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে সম্মাননা ও সনদ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আঞ্চলিক পর্যায়ের ৬০ বিজয়ী পেয়েছে বিশেষ সনদপত্র।
‘ক’ বিভাগে প্রথম হয়েছে ঢাকা উত্তর অঞ্চলের নগদ উদ্যোক্তা মো. শিহাব উদ্দিনের সন্তান নুসাইবা। দ্বিতীয় হয়েছে ময়মনসিংহ অঞ্চলের মিজানুর রহমানের সন্তান হুমাইরা জান্নাত গুলফাম এবং তৃতীয় হয়েছে সিলেট অঞ্চলের সাইফুর রহমানের সন্তান মো. সালমান আর. রহমান।
‘খ’ বিভাগে প্রথম হয়েছে বরিশাল অঞ্চলের মোহাম্মদ এমদাদুল হকের সন্তান মোহাম্মদ খালিদ তালুকদার। দ্বিতীয় হয়েছে সিলেট অঞ্চলের আফসার হোসেনের সন্তান মরিয়ম আক্তার এবং তৃতীয় হয়েছে রংপুর অঞ্চলের মোহাম্মদ ওমর ফারুক প্রধানের সন্তান মো. আবু রাইয়ান প্রধান।
‘গ’ বিভাগে প্রথম হয়েছে ময়মনসিংহ অঞ্চলের মোহাম্মদ দুলালের সন্তান আবিদুর রহমান ইয়াসিন। দ্বিতীয় হয়েছে কুমিল্লা অঞ্চলের মোহাম্মাদ মঞ্জুর সন্তান রিয়ামুল ইসলাম এবং তৃতীয় হয়েছে খুলনা অঞ্চলের মোহাম্মদ ফারুকের সন্তান মোহাম্মদ জামিলুস সিয়াম।
অনুষ্ঠানে নগদের প্রশাসক মো. মোতাছিম বিল্লাহ বলেন, নগদ ইসলামিকের এ আয়োজন ইসলামী সংস্কৃতির চর্চার পাশাপাশি নগদের বৃহৎ পরিবারে একটি মেলবন্ধন তৈরি করেছে। তিনি জানান, ভবিষ্যতে মাদ্রাসা থেকে পাস করা ছয়জনকে নগদের টেরিটরি ম্যানেজার হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে তাদের মূলধারার কর্মক্ষেত্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন নগদের সহযোগী প্রশাসক আনোয়ার উল্লাহ, নগদ লিমিটেডের চিফ কমার্শিয়াল অফিসার মোহাম্মদ শাহিন সারওয়ার ভূঁইয়া, চিফ বিজনেস সাপোর্ট অ্যান্ড সার্ভিস অ্যাসিউরেন্স অফিসার লে. কর্নেল (অব.) মো. কাওসার সওকত আলী, হেড অব মার্কেটিং হেরাস উদ্দিন মুহাম্মদ মেহেদী সাজ্জাদসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
প্রতিযোগিতার বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন হাফেজ মাওলানা মাসুম বিল্লাহ, মাওলানা গাজী সানাউল্লাহ রাহমানী, আলহাজ্ব মাওলানা হাফেজ কাজী মারুফ বিল্লাহ এবং নগদ ইসলামিক শরিয়াহ সুপারভাইজরি কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এইচ এম শহিদুল ইসলাম বারাকাতী।
অধ্যাপক ড. এইচ এম শহিদুল ইসলাম বারাকাতী বলেন, ছোটবেলা থেকেই শিশুদের শুদ্ধভাবে কুরআন তিলাওয়াত শেখানো এবং তাদের সুশৃঙ্খল ও নৈতিক জীবন গঠনে উৎসাহিত করাই এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। ভবিষ্যতে এ আয়োজনের পরিসর আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।














