গাজীপুরের টঙ্গীর ভাদামে অবস্থিত সুপ্রভ কম্পোজিট নিট লিমিটেড নামে একটি কোম্পানি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ। কারখানার ভবন জরাজীর্ণ, ছাদ খুলে পড়েছে এবং নষ্ট হয়ে পড়ে আছে যন্ত্রপাতি।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সাত-আট বছর ধরে সেখানে কোনো কার্যক্রম নেই। অথচ ২০১৭ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে এই কোম্পানির নামে ইসলামী ব্যাংক থেকে ৪৭৬ কোটি টাকার বেশি ঋণ নেওয়া হয়েছে। সুদ-আসলসহ বর্তমানে ব্যাংকটির পাওনা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭৫০ কোটি টাকা।
ঋণ জালিয়াতি ও অর্থপাচারের অভিযোগে কোম্পানির মালিক এ্যাননটেক্স গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইউনুস বাদল, এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান সাইফুল আলমসহ মোট ৩৮ জনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ করেছে ইসলামী ব্যাংক। অভিযোগের বিষয়টি তদন্তাধীন; ফলে কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে এমন দাবি করা হচ্ছে না।
ব্যাংকের অভিযোগ অনুযায়ী, ঋণ আবেদনে সুপ্র কম্পোজিট নিটের ঠিকানা হিসেবে রাজধানীর উত্তরার ৯ নম্বর সেক্টরের একটি ঠিকানা ব্যবহার করা হয়। অনুসন্ধানে ওই ঠিকানায় কোম্পানিটির অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। একইভাবে ইউনুস বাদলের ব্যক্তিগত ঠিকানা হিসেবে উত্তরার ৪ নম্বর সেক্টরের একটি বাসার ঠিকানা ব্যবহার করা হলেও সেখানে তিনি কখনো বসবাস করেননি বলে সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তাকর্মী জানিয়েছেন।
প্রশ্ন উঠেছে, একটি কোম্পানির অস্তিত্ব, কারখানার কার্যক্রম, সম্পদ ও ব্যবসায়িক সক্ষমতা যাচাই না করে কীভাবে শত শত কোটি টাকার ঋণ অনুমোদন করা হলো। বিশেষ করে ৪৭৬ কোটি টাকার বেশি ঋণের ক্ষেত্রে ব্যাংকের শাখা থেকে প্রধান কার্যালয় ও পরিচালনা পর্ষদ পর্যন্ত একাধিক পর্যায়ে যাচাই ও অনুমোদনের সুযোগ থাকার কথা।
কোম্পানিটির জনতা ব্যাংকের কাছেও প্রায় হাজার কোটি টাকা দায় রয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। ফলে একটি কার্যত বন্ধ কোম্পানি কীভাবে একাধিক ব্যাংক থেকে বিপুল ঋণ পেল, সেই প্রশ্নও সামনে এসেছে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—৪৭৬ কোটি টাকার বেশি ঋণের অর্থ কোথায় গেছে। কোম্পানির কারখানা দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় ঋণের অর্থ বাস্তবে উৎপাদন ও ব্যবসায় ব্যবহৃত হয়েছিল কি না, নাকি অন্য ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, সম্পদ কেনা কিংবা বিদেশে স্থানান্তর করা হয়েছে—তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
দুদকের তদন্তে ঋণ অনুমোদনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্মকর্তা ও পরিচালকদের ভূমিকা, ঋণের অর্থের গতিপথ, জামানতের প্রকৃত মূল্য এবং কোম্পানিটির প্রকৃত ব্যবসায়িক সক্ষমতা যাচাইয়ের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সুপ্রভ কম্পোজিট নিটের ঘটনা তাই শুধু একটি বন্ধ কোম্পানির বিপরীতে বিপুল ঋণের বিষয় নয়; এটি ব্যাংকের ঋণ যাচাই প্রক্রিয়া, পরিচালনা পর্ষদের জবাবদিহি এবং আমানতকারীদের অর্থের নিরাপত্তা নিয়েও বড় প্রশ্ন তৈরি করেছে।













