দেশের বিমানবন্দরগুলোতে অনুমোদন ছাড়া গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং ও পরিচালন সেবা প্রদান বন্ধে সতর্কবার্তা জারি করেছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (ক্যাব)। কোনো এয়ারলাইন বা বিমান পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানকে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবা দেওয়ার আগে ক্যাবের অনুমোদন বা বৈধ লাইসেন্স গ্রহণ বাধ্যতামূলক বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
সম্প্রতি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও কাতার এয়ারওয়েজের মধ্যকার কথিত গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং চুক্তি নিয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর এ সতর্কতা জারি করা হয়। অভিযোগ উঠেছে, ‘গ্যালাক্সি ফ্যাসিলিটেশন সার্ভিসেস লিমিটেড’ (জিএফএস) প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক অনুমোদন ছাড়া হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কাতার এয়ারওয়েজকে বিভিন্ন ধরনের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে।
ক্যাবের সদস্য (ফ্লাইট স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড রেগুলেশনস) এয়ার কমোডর মো. মনিরুল ইসলামের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ক্যাবের পূর্বানুমতি বা বৈধ লাইসেন্স ছাড়া বাংলাদেশের কোনো বিমানবন্দরে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কোনো এয়ারলাইন বা এয়ারক্রাফট অপারেটরকে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কিংবা অন্য কোনো পরিচালনগত সেবা দিতে পারবে না।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এ ধরনের সেবা দিতে আগ্রহী যেকোনো প্রতিষ্ঠানকে কার্যক্রম শুরুর আগেই ক্যাবের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় অনুমোদন বা লাইসেন্স নিতে হবে। একই সঙ্গে বিমান সংস্থা ও বিমান পরিচালনাকারীদেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তারা যেন কেবল অনুমোদিত ও লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানকে এসব কাজে নিয়োগ দেয়।
ক্যাব সতর্ক করে বলেছে, এ নির্দেশনা লঙ্ঘন করা হলে তা অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। এ ক্ষেত্রে ‘বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ আইন, ২০১৭’ এবং বিমান চলাচল সংক্রান্ত অন্যান্য প্রযোজ্য আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কাতার এয়ারওয়েজ–গ্যালাক্সি চুক্তি নিয়ে প্রশ্ন
এর আগে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, কাতার এয়ারওয়েজ ও গ্যালাক্সি ফ্যাসিলিটেশন সার্ভিসেস লিমিটেডের মধ্যে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি চুক্তি হয়েছে, যা গত ১ মে থেকে কার্যকর হওয়ার কথা। ওই চুক্তির আওতায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিভিন্ন পরিচালন কাজে গ্যালাক্সির কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।
চুক্তির আওতায় চেক-ইন কাউন্টার প্রস্তুত করা, বোর্ডিং পাস ও ব্যাগেজ ট্যাগ ব্যবস্থাপনা, যাত্রীদের সারিবদ্ধ ব্যবস্থাপনা, বিমানে ওঠার প্রক্রিয়ায় সহায়তা, নিরাপত্তা তল্লাশিতে সহযোগিতা, ব্যাগেজ বাছাই ও লোডিং এবং বিমানের কেবিন-সংক্রান্ত কিছু কাজের কথা উল্লেখ করা হয়।
তবে এসব কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্ট বেসরকারি প্রতিষ্ঠানটির ক্যাব অনুমোদন বা লাইসেন্স রয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এ নিয়েই বিমান চলাচল খাতে নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রক কাঠামো নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়।
সরাসরি গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং চুক্তির সুযোগ নেই
এর আগে ক্যাবের সদস্য (পরিচালনা ও পরিকল্পনা) এয়ার কমোডর আবু সাঈদ মাহবুব খান জানিয়েছিলেন, বিদ্যমান বিধিমালা অনুযায়ী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ছাড়া অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান বিদেশি এয়ারলাইনসের সঙ্গে সরাসরি গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং চুক্তি করার এখতিয়ার রাখে না।
তিনি বলেন, ‘‘বিদ্যমান বিধিমালা অনুযায়ী, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ছাড়া অন্য কোনো সংস্থার কোনো বিদেশি এয়ারলাইনসের সঙ্গে সরাসরি গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং চুক্তি করার সুযোগ নেই। তাই অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এ ধরনের চুক্তি থাকার কথা নয়।’’
তবে বিদেশি এয়ারলাইনগুলো গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের আওতাবহির্ভূত অন্যান্য সেবা, যেমন নির্দিষ্ট বাণিজ্যিক বা সহায়ক কার্যক্রমের জন্য আলাদাভাবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নিয়োগ করতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ
গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং বিতর্কের পাশাপাশি বিমানবন্দরের সংরক্ষিত এলাকায় প্রবেশাধিকার নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গত ২৮ এপ্রিল হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগিব সামাদ এক অফিস আদেশে নিরাপত্তা বিধি কঠোরভাবে অনুসরণের নির্দেশ দেন।
ওই নির্দেশনায় অন্য ব্যক্তির নিরাপত্তা পাস ব্যবহার করে সংরক্ষিত এলাকায় প্রবেশ, নির্ধারিত দায়িত্বের সময় শেষ হওয়ার পর এয়ারসাইড এলাকায় অবস্থান এবং নিরাপত্তা প্রটোকল লঙ্ঘন থেকে বিরত থাকার বিষয়ে সতর্ক করা হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিমানবন্দরের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কার্যক্রম শুধু যাত্রীসেবা নয়, বরং বিমান নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই অনুমোদনবিহীন কোনো প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এসব কার্যক্রম পরিচালিত হলে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
ক্যাব জানিয়েছে, বিমানবন্দর পরিচালনা ও গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কার্যক্রমে নিয়ন্ত্রক বিধিমালা কঠোরভাবে অনুসরণ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নিয়ম ভঙ্গ হলে প্রয়োজনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।














