ঢাকা || ০৩ অক্টোবর ২০২৬

স্পনসর ব্যাংকের শাখায় ট্রেডিং উইং খুলবে আইসিবি

আর্থিক সংকট কাটাতে আয় বাড়ানোর উদ্যোগ; প্রথমে বিভাগীয় শহরে সেবা চালুর পরিকল্পনা

স্পনসর ব্যাংকের শাখায় ট্রেডিং উইং খুলবে আইসিবি

ব্যাংক ইনফো

প্রকাশিত: ০০:২০, ৪ অক্টোবর ২০২৬

আর্থিক সংকট কাটিয়ে আয় বাড়াতে দেশের বিভিন্ন স্থানে শেয়ারবাজারে লেনদেনের সেবা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি)। এর অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির করপোরেট স্পনসর রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর শাখায় পৃথক ট্রেডিং উইং চালুর পরিকল্পনা করা হয়েছে। এসব উইংয়ের মাধ্যমে ব্যাংকের গ্রাহকদের পক্ষে আইসিবি শেয়ারবাজারে লেনদেন করবে এবং এর বিনিময়ে ব্রোকারেজ কমিশন পাবে।

আইসিবির পরিচালনা পর্ষদ ইতিমধ্যে এ-সংক্রান্ত প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। করপোরেশনের স্পনসর ব্যাংকগুলোও এতে সম্মতি দিয়েছে বলে জানিয়েছেন আইসিবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিরঞ্জন চন্দ্র দেবনাথ। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন পাওয়ার পর ব্যাংকগুলো তাদের শাখায় এ সেবা চালু করবে। শুরুতে বিভাগীয় শহরগুলোর শাখায় ট্রেডিং সেবা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

আইসিবির স্পনসর ব্যাংক হিসেবে সোনালী, জনতা ও অগ্রণী ব্যাংক বর্তমানে আইসিবি সিকিউরিটিজ ট্রেডিং কোম্পানি লিমিটেডের (আইএসটিসিএল) মাধ্যমে শেয়ারবাজারে লেনদেন করে। এসব ব্যাংকের নিজস্ব ডিপি (ডিপোজিটরি পার্টিসিপ্যান্ট) লাইসেন্স নেই। এ ছাড়া রূপালী ব্যাংক ও বেসিক ব্যাংকের মতো আইসিবির স্পনসর নয় এমন কিছু রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের পক্ষেও আইসিবি লেনদেন সম্পন্ন করে। নতুন ব্যবস্থায় এসব ব্যাংকের শাখাতেও ট্রেডিং উইং চালুর সুযোগ থাকবে।

আইসিবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, ব্যাংকগুলোকে এ সেবা চালুর জন্য নতুন করে বড় ধরনের মূলধন বিনিয়োগ করতে হবে না। বিদ্যমান শাখার অবকাঠামোর সঙ্গে একটি কম্পিউটার ও একজন কর্মী থাকলেই প্রাথমিকভাবে ট্রেডিং সেবা দেওয়া সম্ভব হবে। এতে ব্যাংকের নিয়মিত গ্রাহকেরা নিজ নিজ শাখা থেকেই শেয়ারবাজারে লেনদেনের সুযোগ পাবেন।

নতুন এ সেবা চালু হলে ব্যাংকগুলোরও আয় বাড়ার সুযোগ তৈরি হবে। বিশেষ করে শেয়ারবাজারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মার্জিন ঋণসহ ব্যাংকের নিজস্ব বিভিন্ন পণ্য বিক্রির মাধ্যমে অতিরিক্ত আয় হতে পারে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো দ্রুত বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন চাইবে বলে আইসিবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক জানান।

বর্তমানে ঢাকার বাইরে আইসিবির কার্যক্রম তুলনামূলক সীমিত। করপোরেশন ও এর সহযোগী প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব শাখা কম হওয়ায় সারা দেশে গ্রাহকদের কাছে শেয়ারবাজারের সেবা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। আইসিবির সিকিউরিটিজ ট্রেডিং কোম্পানির সারা দেশে মাত্র সাতটি শাখা রয়েছে। বিপরীতে বেসরকারি খাতের লংকাবাংলা সিকিউরিটিজের শুধু চট্টগ্রাম নগরী ও আশপাশে ১০টির বেশি শাখা রয়েছে।

স্পনসর ব্যাংকের বিস্তৃত শাখা নেটওয়ার্ক কাজে লাগাতে পারলে আইসিবির গ্রাহকসংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে বলে মনে করছে প্রতিষ্ঠানটি। সোনালী, জনতা ও অগ্রণী ব্যাংকের হাজার হাজার গ্রাহক রয়েছেন। তাঁদের নতুন করে ব্যাংক হিসাব খোলার প্রয়োজন ছাড়াই সংশ্লিষ্ট শাখা থেকে ট্রেডিং সেবা দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

আইসিবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, শুধু চট্টগ্রাম নগরীতেই সোনালী, জনতা ও অগ্রণী ব্যাংকের প্রতিটির ২০টির বেশি শাখা রয়েছে। প্রতিটি শাখা থেকে শুরুতে অন্তত ২০ জন করে গ্রাহককে সেবা দেওয়া হলে শুধু চট্টগ্রামেই সম্ভাব্য গ্রাহকসংখ্যা ১ হাজার ২০০ ছাড়াতে পারে। দেশের সব বিভাগীয় শহরে এ ব্যবস্থা চালু করা গেলে গ্রাহকসংখ্যা আরও বাড়বে।

তবে আয় বাড়ানোর এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে আইসিবির আর্থিক সংকটের মধ্যে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটি প্রথমবারের মতো ১২১ কোটি টাকা বার্ষিক লোকসান করেছে। বিনিয়োগে লোকসান, বেশি প্রভিশন সংরক্ষণ এবং ব্যয়বহুল ঋণের কারণে ওই বছর লোকসান হয়। এর আগের অর্থবছরে আইসিবির মুনাফা ছিল ৩২ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। ২০২১-২২ অর্থবছর থেকেই প্রতিষ্ঠানটির আয়ে নিম্নমুখী চাপ ছিল।

আইসিবির আর্থিক দুরবস্থার পেছনে ২০২৪ সালের আগে দুর্বল ও অপর্যাপ্ত পোর্টফোলিও ব্যবস্থাপনাকেও অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পরিস্থিতি পুনরুদ্ধারে সরকার থেকে আরও ১০ কোটি টাকা নেওয়ার উদ্যোগের পাশাপাশি বড় ও গুরুত্বপূর্ণ সরকারি অবকাঠামো প্রকল্পের ভবিষ্যৎ আয়কে সিকিউরিটাইজেশনের মাধ্যমে সরকারি তহবিল সংগ্রহে সহযোগিতা করার পরিকল্পনাও করছে প্রতিষ্ঠানটি।

এদিকে বৃহস্পতিবার ঢাকার একটি হোটেলে আইসিবির ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং অর্থ মন্ত্রণালয় ও পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তারা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার চেয়ারম্যান আইসিবির টিকে থাকা ও অগ্রগতির জন্য বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনমান উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেন। তাঁরা পেশাদারত্ব ও পরিচালন দক্ষতা বাড়ানোর পরামর্শ দেন।