বোরো মৌসুমে স্থানীয় বাজার থেকে রেকর্ড পরিমাণ ধান ও চাল সংগ্রহ করেছে সরকার। চলতি মৌসুমে সরকারি নির্ধারিত দাম বাজারদরের তুলনায় বেশি থাকায় কৃষক ও চালকলমালিকেরা সরকারি গুদামে ধান-চাল সরবরাহে আগ্রহ দেখিয়েছেন। ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বোরো ধান ও চাল মিলিয়ে ২০ লাখ টনের বেশি খাদ্যশস্য সংগ্রহ হয়েছে।
চলতি বোরো মৌসুমে সরকার মোট ১৮ লাখ ৫০ হাজার টন খাদ্যশস্য সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল। এর মধ্যে ৫ লাখ টন ধান, ১২ লাখ টন সিদ্ধ চাল, ১ লাখ টন আতপ চাল এবং ৫০ হাজার টন গম ছিল।
খাদ্য অধিদপ্তরের (ডিজিএফ) তথ্য অনুযায়ী, ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১৩ লাখ ১০ হাজার টন সিদ্ধ চাল, ১ লাখ ১০ হাজার টন আতপ চাল এবং ৫ লাখ ৭৮ হাজার টন ধান সংগ্রহ হয়েছে। গম সংগ্রহ হয়েছে খুবই সামান্য পরিমাণে। সব মিলিয়ে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ১০৮ শতাংশের বেশি খাদ্যশস্য সংগ্রহ হয়েছে।
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, দেশীয় উৎস থেকে বোরো মৌসুমে এত বেশি ধান-চাল সংগ্রহ এর আগে হয়নি। শুধু ধান সংগ্রহের পরিমাণও ৫ লাখ ৭৮ হাজার টনে পৌঁছেছে, যা রেকর্ড।
এবার বোরো ধানের সরকারি সংগ্রহমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল প্রতি কেজি ৩৬ টাকা। সিদ্ধ চাল ৪৯ টাকা, আতপ চাল ৪৮ টাকা এবং গম ৩৬ টাকা কেজি দরে কেনার সিদ্ধান্ত হয়। সরকারি নির্ধারিত এসব দাম বাজারদরের তুলনায় বেশি হওয়ায় সংগ্রহ কার্যক্রমে কৃষক ও মিলারদের আগ্রহ বেড়েছে।
ওই কর্মকর্তা বলেন, বর্তমানে মোটা চাল ও ধানের বাজারদর সরকারি সংগ্রহমূল্যের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। ফলে কৃষক ও চালকলমালিকদের একটি অংশ সরকারি গুদামে সরবরাহকে বেশি লাভজনক মনে করেছেন। বিশেষ করে চালকলমালিকদের কাছ থেকে সরকারি গুদামে চাল সরবরাহে ভালো সাড়া পাওয়া গেছে।
এবারের বোরো সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হয় ৩ মে। প্রাথমিকভাবে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করা হলেও পরে খাদ্য মন্ত্রণালয় সময়সীমা বাড়িয়ে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত করে।
খাদ্য অধিদপ্তরের সংগ্রহ বিভাগের পরিচালক মো. মনিরুজ্জামান বলেন, আমদানি নির্ভরতা কমাতে এবার দেশীয় উৎস থেকে যত বেশি সম্ভব খাদ্যশস্য সংগ্রহের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ কারণে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা লক্ষ্যমাত্রার ১০৮ শতাংশের বেশি খাদ্যশস্য সংগ্রহ করেছি।’
সরকারি গুদামে সংগ্রহ বাড়ার পাশাপাশি দেশের খাদ্য মজুতও বেড়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের সরকারি খাদ্য মজুত প্রায় ২৪ লাখ টনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে চাল রয়েছে ২০ লাখ ৫০ হাজার টন।
বোরোর আগে আমন মৌসুমেও খাদ্য অধিদপ্তর নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি ধান-চাল সংগ্রহ করেছিল। ওই মৌসুমে ৬ লাখ টন লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ৮ লাখ ৫০ হাজার টন সিদ্ধ চাল সংগ্রহ করা হয়। ৫০ হাজার টনের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ধান সংগ্রহ করা হয় ১ লাখ ৫০ হাজার টন। আর ৫০ হাজার টনের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আতপ চাল সংগ্রহ হয় ৭০ হাজার টন।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, দেশীয় বাজার থেকে সরকারি সংগ্রহ বাড়লে একদিকে সরকারি খাদ্য মজুত শক্তিশালী হয়, অন্যদিকে আমদানির ওপর নির্ভরতা কমানোর সুযোগ তৈরি হয়। তবে বাজারদর ও সরকারি সংগ্রহমূল্যের পার্থক্য এবং কৃষক পর্যায়ে উৎপাদন ব্যয়ের বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই ভবিষ্যতে সংগ্রহমূল্য নির্ধারণ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।














