ফারজানা চৌধুরী
সভা সেমিনারে বক্তৃতা দিতে ও অংশ নিতে তিনি বিদেশে এসব ভ্রমণ করেন। ইন্স্যুরেন্স নিউজ বিডি'র অনুসন্ধানে দেখা যায়, ফারজানা চৌধুরী ২০১৬ সালে ৬টি দেশে ১০ বার ভ্রমণ করেন। এর মধ্যে ৭ বার বিদেশে যান সভা-সেমিনারে অংশ নিতে। বাকি ৩ বার বিদেশে যান দাফতরিক কাজে।
২০১৬ সালে ফারজানা চৌধুরী ৪৫ দিন বিদেশে থাকেন। এতে তিনি খরচ করেন ৩৬ লাখ ৬৪ হাজার ৮৬৫ টাকা। প্রতিদিন তিনি পকেট খরচ নেন ৩০ হাজার টাকা। বিদেশ ভ্রমণের এসব ব্যয় মেটানো হয় কোম্পানি থেকে।
ফারজানা চৌধুরীর বিদেশ ভ্রমণ: আইডিআরএ-দুদকের তৎপরতা ফারজানা চৌধুরীর বিদেশ ভ্রমণ নিয়ে ২০১৮ সালে দুর্নীতি দমন কমিশনে অভিযোগ করা হয়। এই অভিযোগ করা হয় গ্রীন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্সের কর্মকর্তার নামে।
অভিযোগে বলা হয়, আইডিআরএ’র অনুমোদন ছাড়া তিনি বিদেশ ভ্রমণ করেছেন। তিনি তার ব্যক্তিগত ভ্রমণকে অফিসিয়াল ভ্রমণ দেখিয়েছেন। এতে তিনি ব্যয় করেছেন ৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা।এই অভিযোগ তন্তন্তের জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইডিআরএ’কে চিঠি দেয় দুদক (স্মারক নং- দুদক/প্রশাঃ ও লজিঃ/১৯/২০১৬ (অংশ-১)/১০০৩৯(৫) তারিখ-২২/৩/১৮)।
এর প্রেক্ষিতে আইডিআরএ’র তৎকালীন নির্বাহী পরিচালক খলিল আহমেদকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি করা হয়। তদন্ত দল প্রতিবেদনে মন্তব্য করেন, ফারজানা চৌধুরী ২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ফারজানা চৌধুরী ৪০ বার বিদেশ ভ্রমণ করেছেন। এর মধ্যে ৩৫ বার কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছেন।
বিদেশ ভ্রমণ সংক্রান্ত কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় অবহিত করার বিষয় ছিল কিন্তু অনুমোদন নিতে হবে -এ ধরনের নির্দেশনা ছিল না। সেক্ষেত্রে অভিযোগকারী কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ব্যতীত বিদেশে ভ্রমণ করেছেন মর্মে যে, অভিযোগ করেছেন তা যথাযথ প্রমাণ হয়নি।
তবে ব্যক্তিগত কাজে ভ্রমণ করে তা অফিসিয়াল দেখানো হয়েছে কিনা বা কত টাকা বিদেশ ভ্রমণে ব্যয় করেছেন তা নিয়ে তদন্ত প্রতিবেদনে কোনো তথ্য দেয়া হয়নি।ফারজানা চৌধুরী লিখিতভাবে আইডিআরএ’র খলিল আহমেদের তদন্ত দলকে জানান, ব্যক্তিগতভাবে ভ্রমণকে অফিসিয়াল ভ্রমণ হিসেবে দেখানোর সুযোগ নেই।
২০১৬ সালে তিনি বিদেশ ভ্রমণ বাবদ ব্যয় করেছেন ৩৮ লাখ ৪৬ হাজার ২৫৭ টাকা। আর ২০১৭ সালে ব্যয় করেছেন ৩৪ লাখ ১৫ হাজার ৫৪৬ টাকা। সেই সাথে ২০১৪ সাল থেকেই বিদেশ যাওয়ার সকল তথ্যই কর্তৃপক্ষের কাছে দাখিল করেছে।
২০২০ সালের ৯ নভেম্বর আরো একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে আইডিআরএ। ৫ সদস্যের এই কমিটির প্রধান ছিলেন আইডিআরএ’র নির্বাহী পরিচালক (আইন) এস এম শাকিল আখতার। তদন্ত প্রতিবেদনে ফারজানা চৌধুরীর বিদেশ ভ্রমণে অতিরিক্ত ব্যয়ের বিষয়ে তদন্ত দল কোনো অনিয়ম খুঁজে পায়নি। তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় ফারজানা চৌধুরী দৈনিক খরচ বাবদ ভাতা ও বিমান ভাড়া নিয়েছেন।
তদন্ত দলের মতে, এসকল ব্যয় তিনি করেছেন কোম্পানির নিয়ম অনুসারে। তবে বীমা আইন ও বীমা কোম্পানির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়োগ ও অপসারণ সংক্রান্ত প্রবিধানমালায় ২০১২ তে মুখ্য নির্বাহীর বেতনভাতা ও অন্যান্য সুবিধা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর বাইরে কোম্পানির নিয়ম অনুসারে আর্থিক সুবিধা নেয়া বা তা অনুমোদন করার কোনো বিধান নেই।মালয়েশিয়া গেলেন জিডি এসিস্টের কাজে, খরচ দিল গ্রীন ডেল্টা২০১৬ সালের নভেম্বরের ৭ তারিখে ফারজানা চৌধুরী মালয়েশিয়াতে যান। এই ভ্রমণের খরচ দেয় গ্রীন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স। কিন্ত তিনি মালয়েশিয়া যান গ্রীন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের সহযোগী প্রতিষ্ঠান জিডি এসিস্টের কাজে।
মালয়েশিয়ায় প্রবাসী বাংলাদেশীদের স্বাস্থ্য সেবা প্রদানকারীদের সাথে আলোচনা করার জন্য। ফারজানা এবারে মালয়েশিয়ায় থাকেন ৪দিন।এই ৪ দিনে তিনি মোট খরচ করেন ২ লাখ ৪ হাজার ৩২৫ টাকা। এর মধ্যে পকেট খরচ ৯৮ হাজার ৩শ চল্লিশ টাকা। বিমান ভাড়া ৩৯ হাজার ৬শত ৮৭ টাকা, হোটেল ভাড়া ৬৬ হাজার ২৯৮ টাকা।
তবে জিডি এসিস্টের কাজে মালয়েশিয়া ভ্রমণের এই খরচ কেন গ্রীন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স বহন করবে তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। মূলত সহযোগী প্রতিষ্ঠানের কাজের জন্য বিদেশ ভ্রমণের খরচ সহযোগী প্রতিষ্ঠানই বহন করে থাকে।এর আগে ওই বছর ২৭ জানুয়ারিতে দাফতরিক কাজে মালয়েশিয়াতে যান। মালয়েশিয়াতে তিনি থাকেন ৬দিন। এই ৬ দিনে তিনি মোট খরচ করেন ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮৭১ টাকা।
এর মধ্যে- পকেট খরচ ১ লাখ ৪৫ হাজার ৬২০ টাকা। অন্যান্য খরচের মধ্যে- বিমান ভাড়া বাবদ ২০ হাজার ৬৬৫ টাকা, হোটেল বিল ৭৬ হাজার ৯শ’ ৩৬ টাকা, অতিথি আপ্যায়ন ১১ হাজার ৬৫০ টাকা ও ভিসা ফি ৪ হাজার টাকা খরচ করেন। তবে তিনি কি ধরনের দাফতরিক কাজে মালয়েশিয়াতে যান সে সম্পর্কে আইডিআরএ’র অবহিতকরণ পত্রে উল্লেখ নেই।
ফলে তিনি ব্যক্তিগত কাজে, না কোম্পানির কাজে মালয়েশিয়াতে গেছেন তা স্পষ্ট নয়।এন্টারপ্রেনার্স অর্গানাইজেশন বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের প্রেসিডেন্ট হলেন ফারজানা; বিদেশ ভ্রমণের খরচ দিল গ্রীন ডেল্টাএন্টারপ্রেনার্স অর্গানাইজেন প্রতিষ্ঠা হয় ১৯৮৭ সালে।
সারা বিশ্বে তাদের ৫৯টি চ্যাপ্টার রয়েছে। অর্গানাইজেনটির সারা বিশ্বে সদস্য আছে প্রায় ২০ হাজার। প্রতিষ্ঠানটির হেড কোয়ার্টার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আলেকজান্দ্রিয়ায়। এই অর্গানাইজেশনের মুল কাজ উদ্যোক্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি করা।
আন্তর্জাতিক এই সংগঠনটির বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের উদ্বোধন করা হয় ২০১৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি। পাঁচ তারকা হোটেল ওয়েস্টিনে এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন সাবেক বিদ্যুৎ ও জ্বালানী প্রতিমন্ত্রী নছরুল হামিদ। বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের ১ম প্রেসিডেন্ট ছিলেন আনোয়ার গ্রুপের এমডি হোসেন খালেদ।
বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের উদ্বোধনের দুইদিন পরেই ১৭ ফেব্রুয়ারি ফারজানা চৌধুরী এক দিনের জন্য দিল্লি যান এন্টারপ্রেনার্স অর্গানাইজেশনের দিল্লি চ্যাপ্টারের প্রেসিডেন্ট বিভাস প্রসাদের সাথে সাক্ষাৎ করতে। এই বছরই তিনি অর্গানাইজেশনের মেম্বারশীপ চেয়ার পান।বিভাস প্রসাদ লেজার হোটেল ও হিমালয় স্পিরিটস এর মালিক।
বিভাস প্রসাদের বীমা ব্যাবসার সাথে জড়িত থাকার কোনো তথ্য জানা যায়নি। ফলে এই বিভাস প্রসাদের সাথে ফারজানা চৌধুরীর সাক্ষাতের সাথে বীমা ব্যবসা বা গ্রীন ডেল্টার দাফতরিক কাজের কি সম্পর্ক রয়েছে তা জানা যায়নি।দিল্লিতে বিভাসের সাথে সাক্ষাতের ৩ মাস পরে এন্টারপ্রেনারস অর্গানাইজেশনের উদ্যোগে আয়োজিত গ্লোবাল লিডারশীপ কনফারেন্সে যোগ দিতে ফারজানা চৌধুরী ব্যাংককে যান ২০১৬ সালের ১২ মে।
ব্যাংককের তিন দিনব্যাপী লিডারশীপ কনফারেন্সে বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে প্রায় ১৩শ উদ্যোক্তা ও ৫০টি দেশের শিক্ষার্থী অংশ নেয়। যদিও ফারজানা চৌধুরী উদ্যোক্তা নন বা ছাত্রও নন।এই কনফারেন্সের মুল লক্ষ্য ছিল নেতৃত্বের উন্নয়ন, নেটওয়ার্কিং এবং ব্যাবসায়ীক কৌশল নিয়ে আলোচনা করা।
এছাড়া কনফারেন্সে বীমা ব্যবসা বা বীমা বিষয়ক কোনো আলোচনা কনফারেন্সের এজেন্ডাতে ছিল এমন তথ্য নেই। ফলে এই কনফারেন্সের সাথে গ্রীন ডেল্টার ব্যবসায়িক উন্নয়নের কোনো সম্পর্ক জানা যায়নি।এর পরেই ২০১৭ সালে ফেব্রুয়ারির দিকে বাংলাদশে চ্যাপ্টারের “প্রেসিডেন্ট ইলেক্ট” হন ফারজানা চৌধুরী।
অর্গানাইজেশনটির কোনো চ্যাপ্টারের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনের আগে নিয়ম অনুযায়ী “প্রেসিডেন্ট ইলেক্ট” হিসেবে এক বছর দায়িত্ব পালন করতে হয়। পরে ২০১৮ সালে ফারজানা চৌধুরী এন্টারপ্রেনার্স অর্গানাইজেন বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।ফারজানা চৌধুরী ব্যাংককে যান ৬ দিনের জন্য।
এন্টারপ্রেনারস অর্গানাইজেশনের উদ্যোগে আয়োজিত গ্লোবাল লিডারশিপ কনফারেন্সে ছিল ৩ দিনের। বাকি ৩ দিন তিনি ব্যাংককে থাকেন।বাংলাদেশ সরকার ও ইউএন ক্যাপিটাল ডেভেলপমেন্ট ফান্ড (ইউএনসিডিএফ) এশিয়া আয়োজিত "এলডিএস-এ আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ত্বরান্বিতকরণ: দক্ষিণ-দক্ষিণ ও ত্রিকোণীয় সহযোগিতার ভূমিকা" শীর্ষক একটি অধিবেশনে প্যানেল সদস্য হিসেবে অংশগ্রহণ করেন ফারজানা চৌধুরী।
তবে বাংলাদেশ সরকারের সাথে ব্যাংককে যৌথ উদ্যোগে এ ধরনের কোনো সেমিনার হওয়ার কোনো তথ্য নেই ২০১৬ সালের “ইউএনসিডিএফ” এর বার্ষিক প্রতিবেদনে।অপর দিকে গ্রীন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির লিমিটেডের বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদনে এন্টারপ্রেনারস অর্গানাইজেশনের উদ্যোগে আয়োজিত গ্লোবাল লিডারশীপ কনফারেন্সে যোগদানের তথ্য থাকলেও “"এলডিএস-এ আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ত্বরান্বিতকরণ: দক্ষিণ-দক্ষিণ ও ত্রিকোণীয় সহযোগিতার ভূমিকা" শীর্ষক সেমিনারে ফারজানা চৌধুরী যোগদান করেছেন এমন কোনো তথ্য নেই।
ফারজানা চৌধুরীর দিল্লিতে ও ব্যাংককে এই দুই দেশে ভ্রুমণের খরচ দেয় গ্রীন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স। যদিও কোনো বীমা কোম্পানির মুখ্য নির্বাহী এই জাতীয় অর্গানাইজেশনের প্রেসিডেন্ট হতে বিদেশ ভ্রমণ করলে বা কনফারেন্সে যোগদানের জন্য বিদেশ ভ্রমণ করলে তার খরচ কোম্পানি বহন করবে এমন কোনো বিধান বীমা আইন ও মুখ্য নির্বাহী নিয়োগ ও অপসারণ প্রবিধানমালায় নেই।ফারজানা চৌধুরী দিল্লির এক দিনের ভ্রমণে তিনি খরচ করেন ১ লাখ ২৭ হাজার ৫১৩ টাকা।
এর মধ্যে বিমান ভাড়া বাবদ ৭৭ হাজার ৮৮৩ টাকা, পকেট খরচ ৪৮ হাজার ৪৮০ টাকা, এয়ারপোর্ট থেকে হোটেলে যাতায়াত ১ হাজার ১শ ৮০ টাকা। আর ব্যাংককের ৬ দিনের এই ট্যুরে তিনি মোট ব্যয় করেন ৩ লাখ ৫০ হাজার ৬২৭ টাকা। এর মধ্যে পকেট খরচ বাবদ তিনি ব্যয় দেখান ১ লাখ ৪৪ হাজার ৯৯০ টাকা এবং থাকা খাওয়া বাবদ খরচ দেখান ৭০ হাজার ১৮৯ টাকা।
এ ছাড়াও বিমান ভাড়া ৫০ হাজার ৯১১ টাকা, স্থানীয় যাতায়াত খরচ ৯ হাজার ২৪০ টাকা, গণ্যমান্যদের উপহার সামগ্রী প্রদান বাবদ ৬৫ হাজার ৫৯২ টাকা এবং এসব গণ্যমান্য ব্যক্তিদের আপ্যায়ন বাবদ খরচ করেন ৯ হাজার ৭১৫ টাকা। ফারজানা চৌধুরীর এই কনফারেন্সে যোগদানের সমস্ত খরচ বহন করে গ্রীন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি।
বক্তৃতা দিতে দিল্লিতে: কনফারেন্সে স্পন্সর ও ফারজানার ভ্রমণ খরচ দুটোই দিল গ্রীন ডেল্টা২০১৫ সালে নয়াদিল্লিতে প্রতিষ্ঠিত হয় ট্যালেন্টনোমিক্স ইন্ডিয়া। অলাভজনক এই প্রতিষ্ঠানটি মূলত ব্যক্তিগত দক্ষতা উন্নয়ন ও গবেষনার কাজ করে। ট্যালেন্টনোমিক্স ইন্ডিয়া গত ১০ বছরে জেন্ডার ইক্যুইটি ও এআই’র মতো বিষয় নিয়ে ১০টি বেশি কনফারেন্স করে। ট্যালেন্টনোমিক্স ইন্ডিয়া সোস্যাল মিডিয়া পেজে গিয়ে দেখা যায় তাদের ফলোয়ার মাত্র ৮৮৫ জন।
ট্যালেন্টনোমিক্স ইন্ডিয়া আয়োজিত এ্যামপাওয়ারিং ওমেন ফর সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট শীর্ষক কনফারেন্সে বক্তৃতা দিতে ২০১৬ সালের ১৩ মার্চে দিল্লিতে যান ফারজানা চৌধুরী। এই কনফারেন্সের স্পন্সর হিসেবে ছিলেন গ্রীন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স। এবার ফারজানা চৌধুরী দিল্লিতে থাকেন ৪ দিন। এই ৪ দিনের জন্য তিনি খরচ করেন ২ লাখ ৬৫ হাজার ২২৫ টাকা। এর মধ্যে- দৈনিক পকেট খরচ বাবদ মোট ব্যয় করেন ৯৭ হাজার ৫৬০ টাকা।
বাকি টাকার মধ্যে বিমান ভাড়া ১ লাখ ৫ হাজার ৪৮৯ টাকা, গণ্যমান্যদের উপহার প্রদান বাবদ ব্যয় করেন ৫৯ হাজার ৭৬৬ টাকা, টেক্সি ভাড়া বাবদ ব্যয় করেন ২ হাজার ৪১০ টাকা। দিল্লিতে এই ৪ দিন থাকা খাওয়া বাবদ ব্যয় করেননি। থাকা খাওয়ার খরচ বহন করেন আয়োজক প্রতিষ্ঠান ট্যালেন্ট নোমিক্স ইন্ডিয়া।
ফারজানা চৌধুরী জিআইসি ও অন্যান্য রি-ইন্স্যুরারদের সাথে মিটিং করতে ২ দিনের জন্য মুম্বাই যান ৪ এপ্রিল। দুই দিনে তিনি ব্যয় করেন ২ লাখ ১৫ হাজার ৬৪৬ টাকা। এর মধ্যে প্রতিদিনের পকেট খরচ বাবদ মোট ব্যয় ৪৮ হাজার ৭২০ টাকা, ২ দিনের থাকা খাওয়া বাবদ ব্যয় ৫৫ হাজার ১৩৫ টাকা, বিমান ভাড়া ১ লাখ ১১ হজার ৭৫১ টাকা।
যুক্তরাষ্ট্রে ১১ দিনের ভ্রমণ: ৯ লাখ ২১ হাজার টাকা২০১৬ সালের ২২ জুন থেকে ২৬ জুন মোট ১১ দিনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যান ফারজানা চৌধুরী। মোট ৩টি ইভেন্টে অংশ নেয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যান। এর মধ্যে- ইউএসএ সিলেক্ট ইনভেস্টমেন্ট সামিট-২০১৬, ইউএন গ্লোবাল কমপ্যাক্ট লিডার সামিট-২০১৬ এবং ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকার্স এন্ড ইন্স্যুরার মিটিং।
ফারজানা চৌধুরীর ১১ দিনের যুক্তরাষ্ট্রের ভ্রুমণে গ্রীন ডেল্টার খরচ হয় ৯ লাখ ২০ হাজার ৭৯৫ টাকা।ইউএন গ্লোবাল কমপ্যাক্ট লিডার সামিট-২০১৬ ফারজানা চৌধুরীর অংশগ্রহনের তথ্য নিশ্চত করা গেলেও ইউএসএ সিলেক্ট ইনভেস্টমেন্ট সামিট-২০১৬ এবং ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকার্স এন্ড ইন্স্যুরার মিটিং হয়েছে বা ফারজানা চৌধুরী অংশ নিয়েছেন তার কোনো তথ্য নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ইউএন গ্লোবাল কমপ্যাক্ট লিডার সামিটে মূল আয়োজক হলো ইউনাইটেড নেশনস গ্লোবাল কমপ্যাক্ট। এটি জাতিসংঘের একটি বিশেষ উদ্যোগ যা বিশ্বজুড়ে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোকে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে উদ্বুদ্ধ করে।ইউনাইটেড নেশনস গ্লোবাল কমপ্যাক্ট-এর প্রধান সদর দফতর যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরে অবস্থিত। এর মূল অফিসটি ম্যানহাটনের ৬৮৫ থার্ড এভিনিউতে অবস্থিত।
২০০০ সাল থেকে শুরু হওয়া বিশ্বের বৃহত্তম এই কর্পোরেট সাসটেইনেবিলিটি নেটওয়ার্কের সাথে যুক্ত হয়ে গ্রীন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স তাদের নিট আয়ের ০.২% সিএসআর কার্যক্রমে ব্যয় করেছে। ২০১৬ সালে নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত এই সামিটে গ্রীন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্সের এমডি ও সিইও ফারজানা চৌধুরী বিশ্বের প্রথম ১০ জন "লোকাল এসডিজি পায়োনিয়ার" এর একজন হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেন।
মূলত নারীদের জন্য বিশেষায়িত বীমা পণ্য নিবেদিতার মাধ্যমে বাংলাদেশে জেন্ডার সমতা এবং অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অবদানের জন্য তাকে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়। ২০১৬ সালের ২২-২৩ জুন নিউইয়র্কের জাতিসংঘ সদর দপ্তরে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
এতে বিশ্বজুড়ে ১,০০০-এর বেশি ব্যবসা ও নীতি-নির্ধারণী নেতৃত্ব অংশ নিয়েছিলেন, যার মূল লক্ষ্য ছিল টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বেসরকারি খাতের ভূমিকা নিশ্চিত করা।এই স্বীকৃতির মাধ্যমে গ্রীন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স আন্তর্জাতিকভাবে একটি "সাসটেইনেবল" বা টেকসই ব্যবসায়িক মডেল হিসেবে পরিচিতি পায় এবং বাংলাদেশের বীমা খাতকে বৈশ্বিক মঞ্চে তুলে ধরে।
ইউএন গ্লোবাল কমপ্যাক্ট লিডার সামিটে যোগদান করতে নিউইয়র্কে ৫ দিনের ট্যুরে তিনি খরচ করেন ৩ লাখ ১৫ হাজার ৮৩১ টাকা। এর মধ্যে বিমান ভাড়া ১ লাখ ৫ হাজার ২৪২ টাকা, থাকা-খাওয়া বাবদ ব্যয় ৮৮ হাজার ৭৮১ টাকা এবং পকেট খরচ বাবদ ৫দিনে খরচ করেন ১ লাখ ২১ হাজার ৮০৮ টাকা।
ইউএসএ সিলেক্ট ইনভেস্টমেন্ট সামিট-২০১৬ উপলক্ষ্যে ওয়াশিংটন ডিসিতে তিনি ৪ দিনে মোট ব্যয় করেন ২ লাখ ১৭ হাজার ৩৮৪ টাকা। এর মধ্যে থাকা-খাওয়া বাবদ ব্যয় ১ লাখ ১৯ হাজার ৯৩৮ টাকা এবং চার দিনে পকেট খরচ করেন ৯৭ হাজার ৪৪৬ টাকা।
যদিও এ ধরনের কোনো সামিট অনুষ্ঠিত হয়েছে ও ফারজানা চৌধুরী তাতে অংশ নিয়েছেন এমন তথ্য নিশ্চিত হওয়া যায়নি।ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকার্স এন্ড ইন্স্যুরার মিটিং করতে তিনি নিউ জার্সিতে অবস্থান করেন দুদিন। এই সময়ে তিনি মোট খরচ করেন ৪৮ হাজার ৭২৩ টাকা। এই টাকার পুরোটাই তিনি দেখান পকেট খরচ। এগার দিনের এই ট্যুরে ঢাকা-ওয়াশিংটন-নিউইয়র্ক-ঢাকা- রুটে বিমান ভাড়া বাবদ ফারজানার খরচ হয় ৩ লাখ ৩৮ হাজার ৮৫৭ টাকা। এই বিমান ভাড়ার মধ্যে ১ লাখ ৫ হাজার ২৪২ টাকা বহন করে ইউএন গ্লোবাল কমপ্যাক্ট।
আড়াই মাসের ব্যবধানে ফের যুক্তরাষ্ট্রে ফারজানা, গ্রীন ডেল্টার খরচ সোয়া ৭ লাখ টাকাজাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালীন শীর্ষ পর্যায়ের সিইও এবং রাষ্ট্রপ্রধানদের নিয়ে এই উচ্চপর্যায়ের সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। এটি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বেসরকারি অর্থায়নের ওপর জোর দেয়।
২০১৬ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর ইউএন প্রাইভেট সেক্টর ফোরামের মিটিং অনুষ্ঠিত হয় যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটিতে। হোস্ট ছিলেন জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি-মুন। এই সংলাপের এর আয়োজক ছিলেন ইউএন গ্লোবাল কমপ্যাক্ট।
ফোরামের মূল থিম ছিল- "ব্যবসায়িক খাত এবং ২০৩০ এজেন্ডা: টেকসই ভবিষ্যতের পথে অগ্রসর হওয়া"। এতে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৩৫০ জন সিইও, রাষ্ট্রপ্রধান এবং জাতিসংঘের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ অংশ নিয়েছিলেন।ইউএন প্রাইভেট সেক্টর ফোরাম-২০১৬’র মিটিংয়ে অংশ নিতে ২০১৬ সালের ১৫ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করেন ফারজানা চৌধুরী। তার এই ১৩ দিনের ট্যুরে গ্রীন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্সের খরচ হয় ৭ লাখ ২৫ হাজার ৬৯৪ টাকা।
এর মধ্যে তার পকেট খরচ-ই ছিল ১ লাখ ২৩ হাজার ৪৫০ টাকা। বিমান ভাড়া ৩ লাখ ৬৫ হাজার ৫১২ টাকা। ২ লাখ ৮ হাজার ৫৪০ টাকা তার থাকা-খাওয়া খরচ। স্থানীয় যাতায়াত খরচ ১৩ হাজার ৪৯৭ টাকা এবং অতিথি আপ্যায়নে তার খরচ ১৪ হাজার ৬৯৫ টাকা।
দুবাইয়ে ৪ দিনের ট্যুরে ফারজানা, খরচ ৩ লাখ ৮২ হাজার টাকাইউএন গ্লোবাল কমপ্যাক্ট সামিটে যোগ দিতে ২০১৬ সালের ২৬ অক্টোবর দুবাই যান ফারজানা। ৪ দিনের এই ট্যুরে ফারজানার খরচ হয় ৩ লাখ ৮১ হাজার ৪৬১ টাকা। এই পুরো টাকাই তিনি নেন গ্রীন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি থেকে।
ফারজানার এই খরচের মধ্যে ছিল ২ লাখ ৭ হাজার ৬৭২ টাকা বিমান ভাড়া। এ ছাড়াও পকেট খরচ ৯৮ হাজার ২৮০ টাকা, থাকা-খাওয়া ব্যয় ৬৯ হাজার ৫৫৩ টাকা, স্থানীয় যাতায়াত খরচ ৪ হাজার ৭৫২ টাকা এবং ব্যক্তিগত অতিথিদের আপ্যায়নে তার খরচ ১ হাজার ২০৪ টাকা।শ্রীলঙ্কার ট্যুরে ফারজানার খরচ ২ লাখ ১৪ হাজার টাকা
১২তম আন্তর্জাতিক মাইক্রোইন্স্যুরেন্স কনফারেন্সটি ১৫-১৭ নভেম্বর ২০১৬ তারিখে শ্রীলঙ্কার কলম্বোতে অনুষ্ঠিত হয়। এটি মিউনিখ রি ফাউন্ডেশন এবং মাইক্রোইন্স্যুরেন্স নেটওয়ার্কের সহযোগিতায় ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশন অফ শ্রীলঙ্কা (আইএএসএল) আয়োজন করেন।
এই কনফারেন্সে অংশ নিতে ২০১৬ সালের ১৫ নভেম্বর শীলঙ্কা যান ফারজানা চৌধুরী।সম্মেলনের চতুর্থ দিনে “ডেভেলপিং ইনডেক্স ইন্স্যুরেন্স মার্কেটস ইন এশিয়া” শীর্ষক একটি গুরুত্বপূর্ণ প্যারালাল সেশন অনুষ্ঠিত হয়, যা আইএফসি (ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশন) এবং তাদের গ্লোবাল ইনডেক্স ইন্স্যুরেন্স ফ্যাসিলিটি (জিআইআইএফ) দ্বারা পরিচালিত হয়েছিল।
গ্রীন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্সের এমডি এবং সিইও ফারজানা চৌধুরী এই সেশনে একজন মূল বক্তা বা প্যানেলিস্ট হিসেবে অংশগ্রহণ করেন। তিনি বাংলাদেশে কৃষি ও শস্য বীমার সম্ভাবনা, বিশেষ করে ওয়েদার ইনডেক্স ভিত্তিক শস্য বীমা এর ডিস্ট্রিবিউশন চ্যানেল এবং গ্রীন ডেল্টার অভিজ্ঞতার ওপর একটি পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন প্রদান করেন।
এই সম্মেলনটি গ্রীন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্সের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ছিল, কারণ এখানে তারা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তাদের 'ইনডেক্স ইন্স্যুরেন্স' মডেলটি তুলে ধরার সুযোগ পায়। এটি মূলত প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষক এবং মাইক্রো-সেগমেন্টের জন্য বীমা পণ্য উন্নয়নের একটি বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্ম ছিল।
তিন দিনের এই ভ্রমণে ফারজানার মোট খরচ হয় ২ লাখ ১৪ হাজার ৭০৮ টাকা। পকেট খরচ বাবদ কোম্পানি থেকে নেন ৭৪ হাজার ২৫০ টাকা। এ ছাড়াও থাকা-খাওয়া বাবদ ৬৪ হাজার ৭১৩ টাকা এবং স্থানীয় যাতায়াত বাবদ তিনি খরচ করেন ৬ হাজার ৭৫২ টাকা। শ্রীলঙ্কা ভ্রমণের আয়োজক প্রতিষ্ঠান বিমান ভাড়া বাবদ ৬৮ হাজার ৯৯৩ টাকা দেন।













